অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

রোববার পালিত হবে আয়কর দিবস

NBR-1420130914182555 অর্থনৈতিক রিপোর্টার, ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর:  সারাদেশে আয়কর দিবস পালিত হবে রোববার। এ উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আয়কর দিবস ও আয়কর মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আয়কর দিবস ও আয়কর মেলা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
শনিবার জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আয়কর দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ধনী-গরিব বৈষম্য দূরীকরণ, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং বিদেশী সাহায্য ও ঋণ নির্ভরতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
তিনি বলেন, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং এর যথাযথ ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য। অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও অর্থের অন্যতম প্রধান উৎস আয়কর।
নিয়মিত ও সঠিক কর প্রদান একজন সুনাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব উল্লে করে বাণীতে রাষ্ট্রপতি কর প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটি সরল, সহজবোধ্য কর পদ্ধতি ও কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বাণীতে তিনি বলেন, আয়কর দিবস পালন ও আয়কর মেলা আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দিবসটির এবছরের প্রতিপাদ্য ‘আয়কর প্রবৃদ্ধি, দেশ ও দশের সমৃদ্ধি’ যথার্থ হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
আয়কর বিভাগের অটোমেশন ও অনলাইনে কর প্রদান চালু করায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ‘জাতীয় আয়কর দিবস-২০১৩’ ও ‘আয়কর মেলা’র সাফল্য কামনা করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়কর খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে কর সংস্কৃতি বিকাশের কোন বিকল্প নেই।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশী সাহায্য ও ঋণ নির্ভরতা হ্রাস করে আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে এসব কথা বলেন।
তিনি দেশের করদাতা, কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আয়করের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কর বিভাগের সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কর খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কর বিভাগের অটোমেশন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
পাশাপাশি বিদ্যমান আয়কর আইনকে আরো সহজ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘ই-পেমেন্টে’ চালুর ফলে করদাতাগণ এখন অনলাইনে কর দিতে পারছেন উল্লেখ কওে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল জেলায় আয়কর মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। এর ফলে কর প্রদানে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আয়কর খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব অর্জিত হচ্ছে। আয়কর খাতে সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
‘আয়করে প্রবৃদ্ধি, দেশ ও দশের সমৃদ্ধি’-এ স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছরের জাতীয় আয়কর দিবস ও আয়কর মেলার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন’-দেশের কর ব্যবস্থার উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় আয়কর দিবস ও আয়কর মেলা-২০১৩ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এদিকে, আয়কর দিবস উপলক্ষ্যে এনবিআর প্রাঙ্গন থেকে একটি র‌্যালী বের করা হবে। সকাল ৮ টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করবেন-এনবিআরের সদস্যবৃন্দ, কর কমিশনারগণ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আয়কর আইনজীবীরা।
এছাড়া র‌্যালী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ারস্ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ জিকরুল আহমেদ ও এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
র‌্যালীটি সেগুন বাগিচার এনবিআর থেকে শিল্পকলা একাডেমীর পাশ দিয়ে প্রেসক্লাব, সচিবালয় তোপখানা ও বিজয়নগর রোড প্রদক্ষিন করে আবার এনবিআরে ফিরে আসবে।
ওই সময় এনবিআর ভবনের সামনে সঙ্গীত পরিবেশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ওই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন।
এছাড়া সকাল ১১ টায় রূপসী বাংলা হোটেল ট্যাক্স কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ আয়কর দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দিবেন অর্থমন্ত্রী।
ইতোমধ্যে এনবিআর থেকে সর্বোচ্চ ট্যাক্স প্রদানকারীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বছর দেশের ২০ জন সর্বোচ্চ করদাতাকে ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত আগামি ১৬-২২ সেপ্টেম্বর ৭দিনব্যাপী ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে পার্বত্য জেলাসমূহ ব্যতীত অন্য সকল জেলা শহরে ২ দিনব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এবারই প্রথম দেশের সব জেলায় একযোগে করমেলা হতে যাচ্ছে। তবে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে মেলা চলবে সাতদিন।
জেলা শহরের মেলা অনুষ্ঠিত হবে দুই দিন। এছাড়া পাবত্য জেলাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আয়কর প্রদানে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আদায় কার্যক্রমকে সহজ করাও এ মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
রাজধানীতে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে বেইলী রোডের অফিসার্স ক্লাবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মেলাটি উদ্বোধন করবেন।

 

download