আন্তর্জাতিক হটনিউজ স্পেশাল

জাতীয় সংগীত ‘অবমাননা’, মমতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

হটনিউজ ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুম্বাই সফরে যোগ হলো নতুন বিতর্ক। তার বিরুদ্ধে জাতীয় সংগীত অবমাননা’র অভিযোগ তুলেছে বিজেপে। এ ঘটনায় মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন মুম্বাইয়ের এক বিজেপি নেতা।

এরই মধ্যে ঘটনাটিকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বও। পাল্টা কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও।

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ জাতীয় সংগীত নিয়ে বিজেপি’র অভিযোগ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার টুইট করে বলেন, ‘জাতীয় সংগীত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কুৎসা করছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী ‘জন গণ’ গাননি। গানের শব্দ ধরে ভাবার্থ বিশ্লেষণ করে দেশের ঐক্য, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, সংহতির কথা তুলে ধরছিলেন। বিজেপি না বোঝে প্রকৃত জাতীয়তাবাদ, না বোঝে জাতীয় সংগীত, না বোঝে জাতীয় সংহতি।’
মঙ্গলবার মুম্বাই সফরে গিয়েছিলেন মমতা। সেখানে মমতা বিশিষ্টজনদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই জাতীয় সংগীতকে ঘিরে ‘বিতর্কের’ সূত্রপাত।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন মমতা বসে থেকে জাতীয় সংগীত গাইতে শুরু করেন। দু-কয়েকটি শব্দ বলার পর হঠাৎ-ই মমতা উঠে জাতীয় সংগীত গাইতে শুরু করেন। কিন্তু পুরো জাতীয় সংগীত না গেয়ে কয়েকটি লাইন উচ্চারণের পর জাতীয় সংগীত থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠেন, ‘জয় মহারাষ্ট্র’। এখানেই আপত্তি বিজেপি নেতাদের।

মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা প্রতীক কাপরে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘বৈঠকে তথাকথিত বিশিষ্টজনেরা হাজির ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বসে থাকা অবস্থাতে জাতীয় সংগীত গাইতে শুরু করলেন। শুধু তাই নয়, আবার হঠাৎ মাঝপথেই জাতীয় সংগীত থামিয়েও দিলেন! এটা কি জাতীয় সংগীতকে অবমাননার সামিল নয়?’

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য টুইটে লেখেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিচয় হলো আমাদের জাতীয় সংগীত। এই সংগীতকে যেভাবে গেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা, তা অবমাননাকর। বিরোধীরা কি দেশপ্রেম ভুলে গেছেন?’

১৬ সেকেন্ডের সেই ভিডিও হাতিয়ার করে আক্রমণে নেমে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারাও। রাজ্য বিজেপি টুইট করেছে, ‘একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলার সংস্কৃতি, জাতীয় সংগীত, দেশ এবং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও অপমান করেছেন মমতা।’

দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ‘জেনেবুঝে’ই এ কাজ করেছেন। তার কথায়, ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী একটি সাংবিধানিক পদে থাকা সত্ত্বেও জাতীয় সংগীতের অবমাননা করেছেন। জাতীয় সংগীত কীভাবে গাইতে হয়, সেটা কি তিনি জানতেন না, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই অবমাননা করেছেন জাতীয় সংগীতকে?’