অপরাধ হটনিউজ স্পেশাল

৪ বছরের শিশুকে দুই কিশোরের অপহরণ, মুক্তিপণ না পাওয়ায় হত্যা

হটনিউজ ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপন না পেয়ে ৪ বছরের শিশুকে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর শিশুটির মুখ, হাত, পা বাঁধা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাবতলী উপজেলা নেপালতলী ইউনিয়নের লাঠিমার ঘোন উত্তরপাড়া গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বলের ছেলে রিয়াদ (১৪) ও মো: সাজুর ছেলে মো. শুভ (১৪)।

বগুড়ার গাবতলী থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ১৭ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় গাবতলী উপজেলা নেপালতলী ইউনিয়নের লাঠিমার ঘোন উত্তরপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী শাহিন প্রামানিকের ৪ বছর বয়সের মেয়ে সানজিদা খাতুন বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানা পুলিশে জানানো হয়। ওই দিন দুপুরে একটি মোবাইল ফোন থেকে পাশের বাড়ির জনৈক এক গৃহবধূকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া সানজিদাকে জীবিত পেতে হলে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। ওই গৃহবধূ সানজিদার পিতা-মাতাকে মুক্তিপণের বিষয়টি জানায়। মুক্তিপণ দাবিকারীদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সানজিদাকে ফেরত দেয়ার কথায় রাজি হয়ে যায়। কথা মতে রাত সাড়ে ৭ টায় লাঠিমারঘোন রাস্তার একটি কালভাটের কাছে টাকা রাখতে বলে ও বিষয়টি পুলিশ বা প্রশাসনকে জানানো হলে সানজিদাকে হত্যা করার কথা বলে মুক্তিপণকারীরা। এঘটনায় উক্ত এলাকায় ফাঁদ পাতে পুলিশ ও এলাকাবাসী।

বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, অপহরণকারীদের জানানো হয় তাদের কথামত কালভাটের কাছে ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। রাত ৭ টায় দূর থেকে পুলিশ ও গ্রামবাসী ফাঁদ পেতে বসে থাকে। এ সময় এক যুবক সেখানে কিছু খুঁজতে গেলে এলাকাবাসী ও পুলিশ তাকে আটক করে ফেলে। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অপহরণের কথা স্বীকার করে। পরে শিশু সানজিদার কথা জানতে চাইলে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সে পুলিশকে জানায়। তার কথা মতো স্থানে অভিযান চালিয়ে রাত ১১ টায় শুভ’র বাড়ির ঘরের মধ্য থাকা স্টিলের বাক্সের মধ্যে থেকে হাত, মুখ বাঁধা অবস্থায় বস্তায় ভরা লাশটি উদ্ধার করে। পালিয়ে থাকা শুভকে রাতেই তার নানার বাড়ি একই ইউনিয়নের কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। থানায় নিহত শিশু সানজিদার পিতা শাহিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দিয়েছে।