অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

সংস্কারের অভাবে ফরিদপুরের টেপাখোলা গরুর হাটে দুর্ভোগ

FARIDPUR-GORU-bg220130911102242 ফরিদপুর প্রতিনিধি, হটনিউজ২৪বিডি.কম:  ফরিদপুরের প্রাচীনতম টেপাখোলা গরুর হাটে দীর্ঘদিনেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। গত বছর ফরিদপুর পৌরসভা টেপাখোলা গরুর হাট ইজারা দিয়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আয় করে। অথচ গরুর হাটটির এ পর্যন্ত সংস্কার হয়নি। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে জনগণ।

মঙ্গলবার বিকেলে হাটের নির্ধারিত দিনে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাদা-মাটিতে সয়লাব হয়ে গেছে হাট। তাই নির্ধারিত জায়গায় না রেখে গরু রাখা হচ্ছে হাটের পাশের সড়ক ও মহাসড়কে।

এছাড়া অসুস্থ ও দুর্বল গরু বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। টেপাখোলা হাটের পাশেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের অফিস থাকলেও তারা এ বিষয়ে নির্বিকার। অথচ গরুর হাটে আনা প্রতিটি পশুর ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়ার বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে অসুস্থ ও দুর্বল গরুর ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, গরুর হাটের জন্য নির্ধারিত মাঠের মাঝে মধ্যে ফাঁকা। অথচ পাশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়কের ওপর রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য আনা গরু। এর ফলে হাটের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচল করতে গিয়ে পথচারীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

হাটের পাশে সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে মুজিব সড়ক এবং উত্তরে বেলতলা সড়ক। এর মাঝের মাঠে হাটটি বসার কথা। কিন্তু হাটের নির্ধারিত জায়গা ফাঁকা রেখে পার্শ্ববর্তী দুটি সড়ক দখল করে রাখা হয়েছে। এর ফলে সিঅ্যান্ডবি ঘাট থেকে ফরিদপুর শহরে আসার প্রধান সড়ক মুজিব সড়ক ও লক্ষ্মীপুর, চুনাঘাটা মহল্লায় যাতায়তের জন্য বেলতলা সড়কটিতে চলাচলে দারুণভাবে ব্যহত হচ্ছে।

গরুর হাটের পশ্চিম পাশে বিএডিসির গোডাউন, দক্ষিণ পাশে সরকারি ইয়াছিন কলেজ, টেপাখোলা জামে মসজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। সড়কে গরু রাখায় এলাকার সর্বসাধারণকেই তাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মঙ্গলবারে এ হাট বসে। এ হাটের জন্য কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, মেহেরপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা শহর থেকে ট্রাক ভর্তি করে বিক্রির জন্য আনা হয় হাজার হাজার গরু। মঙ্গলবারের এ হাটের জন্য সড়ক দখল থাকে সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত। এ সময় এ এলাকায় যানজট লেগেই থাকে।

সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইছাহাক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তায় গরু রাখায় আমাদের কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা কলেজে ঠিকমত ঢুকতেও পারি না, বের হতেও পারি না। রাস্তার পাশে ড্রেনের ওপর গরু রাখায় ড্রেনগুলোও ভেঙে যাচ্ছে।

হারুকান্দি এলাকার অটোবাইক চালক সবুজ মিয়া বলেন, গরুর হাটের সময় এলাকায় এলে আর বের হওয়ার উপায় থাকে না। দীর্ঘ যানজটে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

বেলতলা মহল্লার জেহাদ ফকির বলেন, হাটের পশ্চিম পাশে বেলতলা সড়কের ওপর গরু রাখায় কাদা, গোবর ও পানিতে রাস্তা নোংরা ও দুর্গন্ধপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়।

রাস্তায় গরু রাখার যুক্তি তুলে ধরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার গরু ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, মাঠের ভেতরে পানি, কাদা ও নোংরা। ক্রেতারা সেখানে যেতে চান না। তাই আমরা সড়কে গরু রেখেছি।

মাগুরার সীমাখালী গ্রামের লিটু সিকদার বলেন, মাঠের কাদার মধ্যে রাখলে গরুর পায়ে ঘা হয়ে যায়। অথচ মাঠটি পাকা করে দিলে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হতো না।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু এলাকার সুভাষ সরকার বলেন, মাঠে কাদার মধ্যে গরু নিয়ে দাঁড়ালে কিছুক্ষণ পরই গরু পইড়া যায়। তাই মাঠে যাই না।

হাটে কর্তব্যরত কনস্টেবল মো. সোহরাব হোসেন বলেন, হাট কর্তৃপক্ষই গরুগুলো রাস্তায় রেখেছেন। তারা রাখলে আমাদের কি করার আছে?

ইজারাদারের পক্ষে হাটের পরিচালক এমএ সালাম লাল বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার মালিকানাধীন এই হাট ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য আমরা ইজারা নিয়েছি। সড়ক থেকে মাঠটি ১/২ ফুট নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়। ড্রেন না থাকায় পানি সরে না। এজন্য ব্যাপারি ও ক্রেতারা মাঠের ভেতরে ঢোকেন না। ব্যাপারিরা যাতে গরু নিয়ে মাঠে ঢোকেন সে জন্য মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

পৌর কর্তৃপক্ষ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে মাটি, বালু ও ইট বিছিয়ে দিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী বলেন, গরুর হাটের সমস্যা আমার নজরে এসেছে। এখানে বড় বড় গরু আনা হয়। এজন্য মাঠ পাকা করা সম্ভব নয়। এরপরও আমি বিষয়টি নিয়ে ইজারারদারদের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবো।