জাতীয় ঢাকা

যুগ্মসচিব পদে ৭০ জনের পদোন্নতি

Government20130911000500 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর :  অবশেষে যুগ্মসচিব পদে রিভিউ বিবেচনায় পদোন্নতি হয়েছে। তবে বঞ্চিত কর্মকর্তারা আশানুরূপ সংখ্যায় পদোন্নতি পাননি বলে অনেকের অভিযোগ।

পদোন্নতি পেয়েছেন ৭২ জন। এদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৭০ জনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ তালিকায় ৮২ বিশেষ ব্যাচের ৩ জন, ৮৪ ব্যাচের ১৪ জন, ৮৫ ব্যাচের ২৪ জন, ৮৬ ব্যাচের ২০ জন ও অন্যান্য ক্যাডার থেকে ৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। বাকি ২ জন লিয়েনে আছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ পদোন্নতির বিষয়ে ২৬ ও ২৭ আগস্ট এবং সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর এসএসবি’র (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) বৈঠক বসে। বৈঠকের কার্যবিবরণী চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে তা অনুমোদন হয়ে ফিরে আসে এবং কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে রাত ৮টায় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
গত ১৮ জুলাই যুগ্মসচিব পদে ৩৪৫ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু উদারভাবে বিপুল সংখ্যায় এ পদোন্নতি দিলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের অনেকে বাদ পড়ে যান। যাদের অনেকে দলমত-নিরপেক্ষ নিরীহ মেধাবী অফিসার।
এর সত্যতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবহিত হওয়ার পর দ্রুত এসএসবি’র বৈঠক ডেকে পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার নির্দেশ দেন।
গত মাসে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার সময় দু’শতাধিক কর্মকর্তা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে শুধু ১৯৮৫ ব্যাচেরই ১৩২ কর্মকর্তা দ্বিতীয় দফায় বঞ্চিত হন। এবার এসব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকে তৃতীয় দফায় বাদ পড়লেন। যাদের পদোন্নতি পাওয়ার সব শর্ত পূরণ রয়েছে। এ ছাড়া ১৯৮২ ব্যাচের ১২ কর্মকর্তা ষষ্ঠ দফায়, ১৯৮৪ ব্যাচের অধিকতর যোগ্য প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা চতুর্থ দফায় এবং ১৯৮৬ ব্যাচের প্রায় ৩০ কর্মকর্তা দ্বিতীয় দফায় বঞ্চিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক যোগ্য কর্মকর্তা বাদ পড়েছেন।
এদিকে এভাবে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কয়েকজন মঙ্গলবার রাতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, এর আগে পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার দুঃখ ছিল এক রকম। কিন্তু এবারকার কষ্ট কীভাবে সামাল দেব? যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রথমবারের মতো বিশেষ রিভিউ সভা করে পদোন্নতি বিবেচনা করা হয়েছে সেখানে নাম না দেখে নিজেকে কোনোভাবেই সান্ত্বনা দিতে পারছি না।
তারা বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী দল-মত নির্বিশেষে সব যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে এটা কী হলো? যারা জামায়াতের লোক তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে যেসব কর্মকর্তা একেবারে চিহ্নিত তারাও পদোন্নতি পেলেন। বাদ যাননি দুর্নীতিবাজদের কয়েকজনও। অথচ কোনো রাজনৈতিক দল ও দুর্নীতি না করেও আমরা পদোন্নতি পেলাম না। এটা কোন মানদণ্ড?
পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমরা নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে প্রশাসনের ইতিহাসের প্রথম এ রিভিউকে কালিমাযুক্ত করা হয়েছে। এসএসবির বৈঠক বসার পর আমরা শুনছিলাম, কোনো কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তা রিভিউ করার ঘোরবিরোধী ছিলেন। তারা প্রথমে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি পদোন্নতি দিতে চাননি। কিন্তু এসএসবির বেশিরভাগ সদস্য সব যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার পক্ষে ছিলেন। কেননা তাদের কাছে যুক্তি ছিল- যেহেতু শূন্যপদ ছাড়াই পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে সেখানে পদ না থাকার অজুহাত তুলে তো লাভ নেই।
এছাড়া এটা তো রিভিউ বৈঠক। এরপরও যদি কোনো যোগ্য কর্মকর্তা বাদ পড়ে যান, তাহলে তার আর প্রতিকার চাওয়ার জায়গা থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে বিবেচনা ঠাঁই পায়নি। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় মাস বাকি থাকার মুহূর্তে তারপরও অনেক যোগ্য ও নিরীহ কর্মকর্তা আবার বাদ পড়লেন। যাদের এ সরকারের মেয়াদে আর পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পদোন্নতি বঞ্চিত : পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের সুরুতজ্জামান, শওকত নবী, ইলিয়াস হোসেন, ওয়ালিউর রহমান, মজিবর রহমান, সাহানা ইয়াসমিন, সদর আলী বিশ্বাস, এসএম ফয়সাল আলম, ১৯৮৪ ব্যাচের ডা. আমিনুল ইসলাম, নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, এসএম রইস উদ্দিন আহমেদ, তালেবুর রেজা মুস্তাকুল হক, আজিজার রহমান মোল্লা, মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, সৈয়দ আহমেদ সফা, আবদুল মাবুদ প্রমুখ।
১৯৮৫ ব্যাচের মফিজুল হক, সাজেদুল কাইয়ুম দুলাল, রফিকুল ইসলাম, ১৯৮৬ ব্যাচের ড. আবুল হোসেন, ড, মোহা. আবদুস সালাম, একেএম শামসুল আরেফিন, ড. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
যারা পদোন্নতি পেলেন : শেখ মোহাম্মদ রজব আলী (১৬১৬), মো. আবুল হাশেম (১০৪৪), মো. মোশাররফ হোসেন (১০৬১), মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল (৩৩৬৪), মো. আবদুল হক (৩৩৯২), মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ (৩৩৯৭), মো. আবুয়াল হোসেন (৩৪১৬), মো. মিজানুর রহমান (৩৪৩২), বিকাশ চন্দ্র সাহা (৩৪৮৬), মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর (৩৫১১), মো. আবদুল মজিদ শাহ আকন্দ (৩৫১৮), জিএম মনসুর রহমান (৩৫৩২), আবু সাদেক মো. আতাহার (৩৫৪৩), মো. ওয়াসিম জব্বার (৩৫৭৪), মো. আজাহার আলী (৩৯৩৭), ড. জাকিরুল ইসলাম (৩৬৩০), মো. ওমর ফারুক (৩৬৩৫), মো. আমিনুল ইসলাম (৪৫০৬), সোলতান আহমেদ (৪৫০৭), মো. হারুন উজ-জামান ভূঞা (৪৫৪৪), মো. নূরুল আমিন (৪৫৬৬), মো. আবুল কালাম আজাদ (৪০২৫), মো. জবেদ আলী (৪৬২৬), মো. মাসুম খান (৪৬৩১), মো. রমজান আলী (৪৬৪১), মো. তসলীমুল ইসলাম (৪৬৬২), মো. জাহিদুর রহমান (৪৬৭৬), ড. সৈয়দ আবু আসাদ (৪৬৯৬), মোহাম্মদ নূরুল আমীন (৪৭৩৬), মো. মাসুক মিয়া (৪৭৪১), মো. আবদুল লতিফ (৪৭৫৮), প্রাণেশ রঞ্জন সূত্রধর (৪৭৬৬), মো. আবদুল হামিদ (৪৭৮৩), কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম (৪৮৬১), মো. ফেরদৌস আলম (৪৮৯০), খন্দকার ফাতেমা বেগম (৪৯০৫), মো. রবি-উর-রেজা সিদ্দিকী (৪৯২৫), মো. নাজমুল হক (৪৯৩৫), মো. খলিলুর রহমান (৪৯৮১), কোং খাম নীলমনি সিংহ (৫০১৭), সৈয়দা আনোয়ারা বেগম (৫০৩৯), ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ (৫২১২), মো. মফিদুল ইসলাম (৫২১৫), মো. মিজান উল আলম (৫২৫২), মো. আজিজুল আলম (৫২৫৮), প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী (৫২৮৭), ফারুক আহমেদ (৫২৮৯), আলমগীর মুহঃ মনুসর উল আলম (৫৩১২), মো. রাশেদুল ইসলাম (৫৩৩৮), বেগম শামিমা হক (৫৩৫০), শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুল হক (৫৩৫৫), মো. মনোয়ারুল ইসলাম (৫৩৬১), মো. গোলাম রব্বানী (৫৩৮৪), বেগম সেলিনা আক্তার (৫৩৯৪), কেএম আবদুস সালাম (৫৩৯৫), সৈয়দা শাহানা বারী (৫৪০৬), আনোয়ারা বেগম (৪০৭৭), নাজমুল আহসান মজুমদার (৫৪১৯), মো. মোস্তাফিজুর রহমান মৃধা (৫৪২১), ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হক (৫৪২২), আবদুর রহিম ভুইয়া (৪০৭৬), মো. আবদুল হাকিম মজুমদার (৭৪৩৪), হিরণম্বয় বাড়ৈ (৭৪২৯), সুশান্ত কুমার প্রামাণিক (৭৪৫৩), বেগম ফৌজিয়া নাহার ইসলাম (৭৪৬১), মো. আবদুর রৌফ (৭৪৪০), মো. রফিকুল ইসলাম (৭২৫৪), ডা. এএমএম আনিসুল আউয়াল (৭৪৮৯), মো. আবদুল কাইয়ুম (৭৪৭৬) ও শফিউদ্দিন আহমেদ (৭৩১৬)।