জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি সংলাপে যেতে আগ্রহী, সরকার আমলে নিচ্ছে না

Hasina20130910221940নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর :  সংলাপে বসার জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের চাপ থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। তবে বিরোধী দল বিএনপি সংলাপে যেতে আগ্রহী। সংলাপ না হলে তারা রাজপথের আন্দোলন জোরদার করবে দলটি।

আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে সংলাপের বিপক্ষে কিছু বলছেন না। জাতীয় সংসদে আলোচনা হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে আলোচনার প্রস্তাব বা রূপরেখা উপস্থাপন করতে হবে। কাল বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনে বিএনপির যোগ দেওয়ার কথা।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা আলোচনার বিপক্ষে নই। আমরা কখনো বলিনি যে আলোচনায় বসব না। জাতীয় সংসদে আলোচনা হতে পারে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি কথা বলতে চায়। আনুষ্ঠানিক সংলাপেও বিএনপি প্রস্তুত। সরকার চাইলে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবও দিতে রাজি। কিন্তু সরকার তো শুনছে না। এ অবস্থায় রাজপথ ছাড়া তাঁদের আর কোনো বিকল্প নেই।
দুই সপ্তাহ আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে ফোন করে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেন। গত রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দুই নেত্রীকে চিঠি দিয়ে আলোচনায় বসার কথা বলেন।
একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল দুই দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যাচ্ছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে গতকাল দুপুরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। গত রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। কবে যাবেন, তা পরে জানাবেন। সেখানে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপির দুজন প্রতিনিধিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, বান কি মুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ফোনে তিনি সে কথাই বলেছেন।
অবশ্য বিরোধী দলকে এভাবে জাতিসংঘে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে সরকারি দল ভালোভাবে নেয়নি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জাতিসংঘের মহাসচিবের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে দুই দলের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।
গত ১ মে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিরোধী দলের কাছে সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু ৪ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশ থেকে বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া এবং পরদিন হেফাজতের কর্মীদের ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনাকে আওয়ামী লীগের নেতারা ‘সরকার উৎখাত’-এর ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন।
সংলাপ না হলে রাজপথ
বিএনপি মনে করছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। তাই আলোচনায় সমাধান না হলে রাজপথের আন্দোলনকেই বেছে নেবে বিএনপি। খালেদা জিয়া নরসিংদীর জনসভা থেকে টানা হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার পরও সমস্যা সমাধানে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।