অপরাধ খুলনা

বাদী জেল হাজতে

karagar1রিপন হোসেন, যশোর থেকে:  যশোরে যৌতুক মামলার আসামিকে মারপিট ও অপহরণের চেষ্ঠার অভিযোগে বাদীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার চীফ জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে মামলার বাদী জোবাইদা নার্গিস ও তার ৪ সহযোগী মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম ও তার মেয়েকে মারপিট করে অপহরণের চেষ্ঠা করে। এসময় শহিদুল ইসলামের মেয়ে জেবা ফারিয়া তার বাবাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার দিলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে জোবাইদা নার্গিস ও জেলা ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ওমর ফারুক রয়েলকে ধরে ফেলেন। বাকীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে আসামি পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুইজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী দুই জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০২ সালে শহরের বকচর এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে এসএম শহিদুল ইসলামের সাথে শহরের ষষ্টীতলা এলাকার মোস্তফা ইকবালের মেয়ে জোবাইদা নার্গিসের বিয়ে হয়। এরপর তাদের দাম্পত্য কলহের জের ধরে ২০১১ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১১ সালে জোবাইদা নার্গিস বাদী হয়ে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসএম শহিদুল ইসলামকে আসামি করে যৌতুক মামলা দায়ের করেন। মামলার নং সিআর ২৩০/১১।

মঙ্গলবার (আজ) এই মামলায় বাদী পক্ষের সর্বশেষ স্বাক্ষী উপস্থাপনের দিন নির্ধারিত ছিল। মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম ও ৮ বছর বয়সী মেয়ে জেবা ফারিয়াকে নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। বেলা ১ টার দিকে তারা আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। এসময় মামলার বাদী জোবাইদা নার্গিস, জেলা ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ওমর ফারুক রয়েল, নাঈম ও অসীমসহ ৪/৫ শহিদুল ইসলামকে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে তাকে অপহরণের চেষ্ঠা চালায়। এসময় তাদের চিৎকারে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এঘটনায় পুলিশ বাদী জোবাইদা ও রয়েলকে আটক করলেও বাকীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিনা খানম বিজ্ঞ আদালতে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা যাচাই করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল ইসলাম মামলার বাদী জোবাইদ নার্গিস ও ওমর ফারুক রয়েলকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে ঘটনায় জড়িত পলাতক বাকী দুই আসামিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানান,ওমর ফারুক রয়েল জেলা ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী নানা অভিযোগ রয়েছে। তাকে বহিস্কার করার চিন্তাভাবনা চলছে।