জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

জন কেরির চিঠি, সংলাপ নিয়ে দুই দলের সাড়া নেই

Picture20130909234423 ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর :  চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দুই নেত্রীকে সংলাপের অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি চিঠি পাঠানোর পরও সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংলাপের কোনো উদ্যোগ নেই।

এদিকে বিরোধী দল বিএনপি জন কেরির চিঠিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, তারা সংলাপে বসতে রাজি। তবে বিরোধী দলও সংলাপ শুরু করতে আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জন কেরি দুই নেত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন গত রোববার।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, প্রধানমন্ত্রী চিঠি পড়লেও এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত দলীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
সরকারি দলের নেতারা গতকালও বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব থাকলে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারে। কিন্তু সরকার সংবিধানের বাইরে কোনো প্রস্তাব মানবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, সব দলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা গত রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও বিএনপির গুলশানের কার্যালয়ে চিঠি দুটি পৌঁছে দেন।
জানতে চাইলে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ক্যালি ম্যাকার্থি গতকাল জন কেরির চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেরি চিঠিতে দুই নেত্রীকে ইতিবাচক সংলাপে বসতে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে বান কি মুন দুই নেত্রীকে ফোন করার দুই সপ্তাহের মাথায় একই প্রক্রিয়ায় শরিক হলো যুক্তরাষ্ট্র। আর চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রথম দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তাগিদ দিলেন। এর আগে ২৩ আগস্ট সকালে ও সন্ধ্যায় যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ফোন করে সংলাপে বসার তাগিদ দেন বান কি মুন।
জানা গেছে, দুই পৃষ্ঠার চিঠির শুরুতে জন কেরি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় ও আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য-সম্পর্ক সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও কানেকটিভিটির গুরুত্বের কথাটি জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জন কেরি চিঠিতে বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক বৈরিতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি এ মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে দুই দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আলোচনার টেবিলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।