অপরাধ ঢাকা

বোমা বিস্ফোরনে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাগ্নে সহ ২ জন আহত

images (1)শরীয়তপুর সংবাদদাতা :  শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা বানাতে গিয়ে ২ বোমা বানানোর কারিগর মারাত্মক আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের ১জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাগ্নে বলে জানা যায়। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোমা বিস্ফোরনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাজিরা থানা পুলিশ। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘটনাটি অস্বিকার করে বলছেন এটা একটা ¯্রফে গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। এ নিয়ে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।
বিলাশপুর শেহের আলী মাদবর কান্দি গ্রামের জলিল মাদবর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে বিলাশপুর সারেংকান্দি গ্রামে একটি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বেপারী ও তার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী আব্দুল জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কুদ্দুস বেপারীর সমর্থকরা জলিল মাদবরের সমর্থক সিরাজ মুন্সি, আকবর মুন্সি ও রিজিয়া বেগম নামে তিনজনকে মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং উভয় পক্ষ বড় ধরনের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে রোববার রাতে বিলাসপুর মূলাই বেপারী কান্দি গ্রামের শফিক ওরফে শহি খানের বাড়িতে জাজিরা পৌরসভার দক্ষিন বাইকসা গ্রামের বাসিন্দা চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর ভাগ্নে আবেদ আলী ফকিরের ছেলে জুয়েল (২৫) ও নড়িয়া উপজেলার শাহের আলী মাদবর কান্দি গ্রামের আজিজ শিকদারের ছেলে কামাল শিকদার সহ ৫/৬ জন বোমা তৈরীর কাজ করছিল। বোমা তৈরীর এক পর্যায়ে ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ বোমার বিস্ফোরন ঘটে।
এতে জুয়েল ও কামালের দুই হাতের কব্জি উড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কোন চিকিৎসা করিয়ে ভোর রাতেই গোপনে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। আহত ২ বোমা কারিগরই আওয়ামীলীগ সমর্থক বলে জানা গেছে। বোমা বিস্ফোরনের বিকট আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে জাজিরা থানা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে না যেতেই বোমা বিস্ফোরনের আলামত নষ্ট করে ফেলে ও আহতদের কে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে ফেলে। বোমার বিস্ফোরনের পর থেকে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।
বিগত নির্বাচনে বিলাশপুর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দি পরাজিত প্রার্থী আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বেপারীর সমর্থকেরা আমাদের শনিবার আক্রমন চালিয়ে একজন নারী সহ আমার চার সমর্থককে আহত করে। এ বিষয়ে মামলা করতে গেলে জাজিরা থানা মামলা গ্রহন করেনি। আমার লোকদের উপর পূনরায় হামলা চালানোর জন্যই কুদ্দুস বেপারী তার ভাগ্নেকে দিয়ে বোমা তৈরী করাতে গিয়ে ফিস্ফোরনে তার ভাগ্নে সহ দুজনের হাতের কব্জি উড়ে যায়।
এ ব্যাপারে বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ কুদ্দুস বেপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এটা একটা ¯্রফে গুজব। এ ধরনের কোন ঘটনাই আমার এলাকায় ঘটেনি।
জাজিরা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ইকরাম মিয়া বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনাস্থলে বোমার কোন আলামত পাইনি। যারা আহত তাদেরকেও পাওয়া যায়নি। থানায় কেউ কোন মামলাও দায়ের করেনি। তবে যারা আহত হয়েছে বলে শুনেছি তাদের কোথায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।