অপরাধ জাতীয় প্রধান খবর বরিশাল

সাওদা হত্যা, ৪ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি খুনি রাসেল

Barisal20130908222136বরিশাল প্রতিনিধি, ৯ সেপ্টেম্বর :  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সাওদা খুন হয়েছে আজ ৪ দিন। এরই মধ্যে মুছে যেতে শুরু করেছে রাস্তার উপড়ে পড়ে থাকা তাজা রক্তের ছাপ।

শুকিয়ে যাচ্ছে সহপাঠীদের চোখের জলও। অথচ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি খুনি রাসেল।
রয়ে গেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরা ছোয়ার বাইরে। তাই অপেশাদার এই খুনিকে চার দিনেও গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের যোগ্যতা নিয়েও।
নিহত সাওদার স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা সবাই বলছেন, রাসেলের রেখে যাওয়া চিড়কুট অনুযায়ী সাওদাকে হত্যার পরে রাসেল যদি আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে তার লাশটি এত দিনে খুঁজে পাওয়ার কথা। কিন্তু খুনি রাসেলকে জীবিত বা মৃত কোন ভাবেই ধরতে পারছে না পুলিশ। আর এতে এটাই প্রমাণ হচ্ছে অজোপাড়া গায়ের যুবক রাসেলকে গ্রেপ্তারে পুরোপুরি ব্যর্থ মেট্রোপলিটন পুলিশ।
তবে রাসেলকে গ্রেপ্তার প্রসংঙ্গে পুলিশের কণ্ঠে সেই একই সুর। “খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে খুনি রাসেল। সে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। ধরা তাকে পড়তেই হবে”।
গত ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নগরীর ঈশ্বরবসু রোডের খান ভিলার সাবলেট বাসা থেকে রুমমেট ও সহপাঠী নাসিমা আক্তারের সাথে পায়ে হেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাওদা।
তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের অদূরে ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডের এক জামায়াত নেতার বাসার সামনে পৌছালে সাওদার পথরোধ করে এক সময়ের প্রেমিক একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাসেল মিয়া।
এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্যপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে ব্যর্থ প্রেমিক রাসেল ধারালো দা দিয়ে সাওদার ওপর হামলা চালায়। সাওদা রাসেলের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে একটি বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
রাসেলের হামলায় সাওদা রাস্তার ওপর পড়ে গেলে তাকে রাস্তার উপর চেপে ধরে তার গলায় ও মাথায় কুপিয়ে জখম করে রাসেল। পরে স্থানীয়রা রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সাওদাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে তাৎক্ষণিক ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার ডেকে আনেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে সাওদাকে উড়িয়ে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
তবে সবাইকে কাদিয়ে বিকেল ৫টার দিকে মৃত্যু নামক না ফেরার দেখে পারি জমায় সাওদা।
এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাওদাকে ঢাকায় নেয়ার পরপরই নগরীর জর্ডন রোডের শেখ হাট নামক চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অভিযান চালায় পুলিশ। কারণ সেখানেই মেসে ভাড়া থাকতো সাওদার এক সময়ের প্রেমিক ও হত্যাকারী রাসেল। তবে রাসেলকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
সেখানে রাসেলের হাতের লেখা চার পাতার একটি চিরকুট পায় পুলিশ। ওই চিরকুটেই সে লিখেছে সাওদাকে হত্যার পরিকল্পনার কথা। সাওদাকে হত্যার ঘটনায় ওই দিন রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন সাওদার মা সাহিদা বেগম। মামলায় রাসেলকে এবং আরো ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে রাসেলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে আটক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান প্রথম বর্ষের ছাত্র বিপুল রাড়ৈকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাওদার মায়ের দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন নিজেই।
তিনি ইতিমধ্যে বিপুলের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন আদালতে। অথচ প্রকৃত খুনি রয়ে গেছে তাদের নাগালের বাইরে।
এরই মধ্যে আবার গত শুক্রবার দুপুরে সাওদার আবাসস্থল ঈশ্বরবসু রোডের খান ভিলার সাবলেট বাসা থেকে সাওদার হাতে লেখা দুটি চিঠি এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কোতয়ালী থানার ওসি বরাবর লেখা কম্পিউটার কম্পোজ একটি জিডির কপি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে জিডিটি সে থানায় দায়ের করেনি।
অপর দিকে রাসেলের মেস ও সাওদার সাবলেট বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজের টুকরোগুলো উল্লেখযোগ্য আলামত হিসেবে দেখছে পুলিশ। কিন্তু যেখানে সাওদার হত্যাকারী হিসেবে রাসেলের নাম স্পষ্ট সেখানে রাসেলকে গ্রেপ্তার না করে এসব আলমত কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দিহান অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে ৪ দিনেও রাসেল গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান।
তবে পুলিশ জানিয়েছে খুব শিগগিরই রাসেল ধরা পড়বে। মেট্রোপুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এটিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, রাসেল ঘন ঘন তার স্থান পরিবর্তন করছে। তাই তাকে গ্রেপ্তারে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে পুলিশ বসে নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাসেল গ্রপ্তার হবে।