অপরাধ ঢাকা রাজনীতি

বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানালেন তারেক-মামুনের আইনজীবীরা

download (7)আদালত প্রতিবেদক: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে লিখিত আবেদন করেছেন। গতকাল রোববার ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক মোতাহের হোসেনের প্রতি তারা এ আবেদন জানান। আবেদনে বলা হয়, ‘আমার আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুন আপনার আদালতের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। ন্যায় বিচার না পাওয়ার কারণে আমরা আপনার আদালতের প্রতি অনাস্থা জানাচ্ছি।’ এ ব্যাপারে আসামি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ‘ মামলার ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি অন্য আদালতে বদলি করে দেন। কারণ আমরা আপনার আদালত থেকে কোনও ন্যায়বিচার পাচ্ছি না।’ এ দিকে তারেক রহমানের নিশ্চিত সাজা হবে জেনেই বিচার বানচাল করার জন্য বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিচারকের সঙ্গে বাজে ব্যবহার শুরু করছেন বলে অভিযোগ করেন দুদকের প্রধান আইনজীবী আনিসুল হক। মামুনের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ‘ ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করার আবেদন করছি। কারণা আমরা এ আদালতের কয়েকটি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গিয়েছি। সেখানে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হোক।’ বিচারক এ আবেদন খারিজ করে দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম টানা দুই ঘণ্টা সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে ছিলেন। আসামি পক্ষের বিরোধীতার কারণে তার সাক্ষ্য নিতে পারেনি আদালত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিচারক যখন আবেদন খারিজ দেন তখন শতাধিক বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা হইচই শুরু করেন। বিচারককে উদ্দেশ্য করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা নানাধরণের মন্তব্য করতে থাকেন। তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আ মামুনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এ মামলায় ২০১১ সালের ৬ জুলাই তারেক ও মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট মামুন ও তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। তারেক রহমানের অনুপস্থিতে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ মামলার পলাতক আসামি তারেক রহমান। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান। সেই থেকে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।