সারাদেশ হটনিউজ স্পেশাল

দিনাজপুরে মা-ছেলেকে অপহরণ মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

হটনিউজ ডেস্ক:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর ও সিআইডির অপর দুই সদস্যসহ ১০ জনকে আসামি করে করা মামলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তাফিজার রহমান।

তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা পেয়েছি। ১০ আসামির মধ্যে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন কেউ গ্রেফতার হয়নি। ডিবির ওসি নিজেই মামলাটি তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় উদ্ধার করা হয় অপহৃত লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪২) ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (২৫)। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বুধবার চিরিরবন্দর থানায় ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যার মামলা নং-২৬, তারিখ: ২৫.০৮.২০২১। এ মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার বিকালে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দিনাজপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামলার অন্যতম আসামি ফসিউল আলম পলাশ দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এর পর গ্রেফতার পাঁচ আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া একই আদালতে মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম, তার মা অপহরণ থেকে উদ্ধারকৃত জহুরা খাতুন এবং আরও অপর দুই সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিআইডির রংপুর কার্যালয়ের এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় অপহৃত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বুধবার চিরিরবন্দর থানায় মামলা করলে পুলিশ এ মামলায় পাচঁজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে আদালতে সোপর্দ করে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন— রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক ও মাইক্রোবাসচালক হাবিব। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফসিউল আলম পলাশ নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর যাদের অপহরণ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, তারা হলেন— দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪২) ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর (২৫)।

জাহাঙ্গীরের খালাতো ভাই শামসুল ইসলাম মানিক জানান, সোমবার রাত ৮টায় একটি মাইক্রোবাসে তার খালু লুৎফর রহমানের বাড়িতে যায় একদল মানুষ। এ সময় তারা সিআইডির পরিচয়ে লুৎফর রহমানকে খুঁজতে থাকে। লুৎফর রহমানকে না পেয়ে লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় তারা।

পরের দিন মঙ্গলবার সকালে মা ও ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীরের ফোন থেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে ২০ এবং সর্বশেষ ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

জাহাঙ্গীরের পরিবারের লোকজন বিষয়টি চিরিরবন্দর থানায় জানান, মঙ্গলবার দাবির টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্বজনদের নিয়ে চিরিরবন্দর থানার এসআই তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন ঠিকানা অনুযায়ী রানীরবন্দর এলাকায় যান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা থাকার পর তাদের বলা হয়, কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকায় তেলের পাম্পের কাছে যেতে। এভাবে কয়েকবার জায়গা বদল করে তাদের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়সংলগ্ন বাঁশেরহাট এলাকায় যেতে বলেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে।
সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দশমাইলের দিকে রওনা দেন। দশমাইলে স্থানীয় লোকজন ও কোতোয়ালি পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ চারজনকে আটক করে এবং অপহৃত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে। আটকের পর জানাজানি হয়, আটকদের মধ্যে তিনজন রংপুর সিআইডি পুলিশের সদস্য। আটকের পর মঙ্গলবার রাতেই তাদের দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

এ ব্যাপারে রংপুর সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান জানান, তিনি শুনেছেন যে দিনাজপুরে সিআইডির তিন সদস্য আটক হয়েছে। এদের মধ্যে রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান-উল হক ফারুক।

তিনি বলেন, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান-উল ফারুক ছুটিতে ছিলেন এবং এএসপি সারোয়ার কবীর ডিউটিতে ছিলেন। তবে এএসপি সারোয়ার কবীর কাউকে না জানিয়েই দিনাজপুরে গেছেন।

তারা যদি দিনাজপুরে গিয়ে অপহরণ বা কোনো বেআইনি কাজ করে থাকে, তা হলে তদন্ত সাপেক্ষেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।