জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালিয়ে যেতে আবার ভোট চাই: হাসিনা

PM-AL+Meeting (1)জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হটনিউজ২৪বিডি.কম: দ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে নিতে পুনরায় ভোট চাইতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের বলেছেন শেখ হাসিনা।রোববার গণভবনে ছয়টি জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ হিসেবে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এটি ছিল দ্বিতীয় সভা, যাতে অংশ নেন যশোর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, কুড়িগ্রাম ও নওগাঁর জেলা, উপজেলা, থানা ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা কমিটিগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সভার প্রারম্ভিক ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি। এই বিচারও করব, এজন্য জনগণের কাছে ভোট চাই।” বর্তমান সরকার আমলে শুরু হওয়া একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে এই পর্যন্ত গোলাম আযমসহ ছয়জনের মামলার রায় হয়েছে। আরো কয়েকজনের বিচার চলছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রাখতে দেশবাসীর কাছে ভোট চাইতে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় রাখার গুরুত্বও জনগণের কাছে তুলে ধরতে বলেন তিনি। শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে। আমাদের আরেক বার নির্বাচিত করলে বাংলাদেশেকে উন্নত দেশে পরিণত করব। “আওয়ামী লীগ আরেকবার ক্ষমতায় আসলে যে উন্নয়ন আমরা করেছি, যা চলমান আছে- সেগুলো সমাপ্ত করতে পারব।” বৈঠকে প্রতিটি সংসদীয় আসনের তৃণমূল নেতাদের তিনজন করে প্রার্থীর নাম সুপারিশ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে একশ’তে কাকে কত নম্বর দেবেন তা-ও লিখে দিতে বলেন। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ১০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি ফরম দেয়া হয়। সভা চলার মধ্যেই সবাই এই ফরম পূরণ করে জমা দেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তার করা জরিপ এবং তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আপনারা যদি তখন শক্তভাবে না দাঁড়াতেন, তা না হলে বাংলাদেশে আর নির্বাচন হতো না। যে কোনো ক্রাইসিসে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, ওপরের দিকের নেতারা ব্যর্থ হয়।” বিরোধী দল ‘অপপ্রচার’ চালিয়ে জনগণকে ‘বিভ্রান্ত’ করছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়কের দাবি জানালেও সংসদে মুলতবি প্রস্তাব্ দিয়ে নিজেরাই তা তুলে নিয়েছে। “সংসদে মুলতবি প্রস্তাব দিল। আমরা যখন কার্য উপদেষ্টা বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন তারা তখন প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিল।” “তারা (বিএনপি) দেশে গন্ডগোল পাকায়ে রাখতে চায়।” তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করতে ‘তড়িঘড়ি’ করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন হয়েছে- বিরোধী দলের এই বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে ২০১০ সালের ২২ জুলাই। বিল পাস হয়েছে ২০১১ সালের ৩০ জুন। “এত সময় নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও কোনো বিল পাস হয়নি। এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এরা জ্ঞানপাপী ছাড়া কিছুই নয়।” বর্তমান সরকার আমলে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ নেই। “অনেক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরেছে। পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা হেরেছে। পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তারপরও জনগণ ভোট দেয়নি। জনগণ সৎ লোককে বেছে না নিলে কী করার আছে।” শেখ হাসিনা বলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। “প্রথমে তারা বললো, আড়াই হাজার লোক মারা গেছে। এরপর বললো, ৬১ জন। তাদের এক এনজিও ৬১ জনের তালিকা বানিয়েছে, সেটাও ভুয়া। ৬১ জনের মধ্যে অনেকে জীবিত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।” দাদী হিন্দু ছিল বলে বিএনপির এক মহিলা সাংসদের বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আমরা দাদার নাম, দাদীর বাবার নাম বলতে পারবে। “বিরোধীদলীয় নেত্রীর জন্মস্থান কোথায়? তার জন্মদিন কয়টা? তার নানার নাম কী? তার নানীর বাবার নাম কী?” “এগুলো বললেই বোঝা যাবে। কারা ধর্ম-কর্ম করে।”