জাতীয় প্রধান খবর প্রযুক্তি রাজনীতি

একজন এমপি, দুই জন নির্বাচনী ডিজিটাল যুদ্ধা

joy and Tapsh20130907194416নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর:  একে একে দুই। অবশেষে দুইয়ের সাথে এক। ফলাফল তিন। গাণিতিক সমীকরণ ঠিক হিসাব মিলে গেলেও এবার মিলেছে রাজনীতির অংকে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশর রাজনীতির মাঠে।

এরা কে? কী এমন পরিচয়? কেন এত আলোচনা? নাম জানার পর মনে মনে উত্তর আসবে-কেনই বা নয়! এরা তো সাধারণ পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা কোন বংশ পরম্পরা নয়। এরা বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের রক্ত কণিকার উত্তরাধিকারী।
ওরা তিনজন। একজন ইতিমধ্যে এমপি। আরেকজন বিদেশ বিভুঁয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানী। আরেক জনও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত।
প্রথমজন হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোনের ছেলে ফজলুল হক মণির ছেলে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। তিনি এখন রাজধানীর নির্বাচনী সংসদীয়-১২ আসনের এমপি।
দ্বিতীয়জন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তৃতীয়জন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান সিদ্দিকী ববি।
ইতিমধ্যে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। আসি আসি করে, না এসে ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছিলেন জয়। অবশেষে অবস্থান স্পষ্ট ও খোলাসা করেন গত জুলাইয়ে।
মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে দেশে বিরোধী শিবিরে ঘুম ভাঙ্গান জয়। জনগণের মাঝেও একটু আলোচনার খোরাক তৈরি হয়।
আওয়ামী যুবলীগের ইফতার পার্টিতে ‘আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে’ এমন মন্তব্য করে দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে পিতৃালয়ের জনসভায় বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা এবং ড. ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে জয়।
পিতৃভিটার জনসভা মঞ্চেই রাজনীতির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছেন বলে মনে করেছেন দেশবাসীসহ রাজনীতিক বিশ্লেষকগণ।
এরপর সভামঞ্চে নয় ডিজিটাল বাস্তবতার প্রাযুক্তিক ভার্চুয়ালের নিজস্ব অফিসিয়াল ফেইসবুক এবং টুইটার পেইজে আওয়ামী রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য-আহ্বান দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন জয়।
পরবর্তীতে জয়ের বক্তব্যের জের ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছিলেন, বিদেশ থেকে সেনাপতি এনে পরাজয় ঠেকাতে পারবে না আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার কথাকে উড়িয়ে দিয়ে অনেকে বলেছিলেন, একজন সেনাপতি এসেছে। আরও একজন আসছে নির্বাচনের আগে। অবশেষে স্পষ্ট হলে সে রেদওয়ান সিদ্দিক ববি।
প্রাযুক্তিক অগ্রগতির উদ্যমতা বাড়িয়ে দিয়েছে নাগরিক জীবন বাস্তবতা। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে, জ্ঞান গরিমার উৎকর্ষ সাধনে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ডিজিটাল আধিক্যে।
সেজন্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইন প্রচারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণায় জয়ের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ববি।
নির্বাচন কেন্দ্র করে শীঘ্রই ববি দেশে আসছেন বলে জানা গেছে। দেশে এসে তিনি অনলাইন প্রচারের কাজ শুরু করবেন। প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক, ব্লগ, টুইটারসহ আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও সরকার ও আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচানার কাউন্টার দিতে ববির নেতৃত্বে টিম কাজ করবে।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণায় দুর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে দুই ভাইয়ের যোগসূত্র উত্তরণ ঘটাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এমনটাই মনে করেন বলে জানা গেছে।
লন্ডনের স্কুল অফ ইকোনোমিক্স থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত রেদয়ান সিদ্দিক ববি ঢাকায় একটি বিদেশী সংস্থায় দুই বছর চাকরিও করেছেন। ২০১১ সালে ইউএনডিপির অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে যোগ দেন। প্রকল্পের কর্মকর্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজ করেন। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে লন্ডন চলে যান।
ববি দেশে এসে নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইন প্রচারনার কাজ শুরু করবেন। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেবেন সজীব ওয়াজেদ জয় বলে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ট জনের কাছ থেকে জানা গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ববি দুই সন্তানের জনক। ছেলে কাইয়াস মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে লীলাতুলী হাসিনা সিদ্দিক। ২০০৮ সালে ইউরোপীয়ান পেপি সিদ্দিককে বিয়ে করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনলাইন ভিত্তিক এসব কর্মকান্ডে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন টেক্সট, পিক্স প্রস্তুতের কাজ চলছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায়, রেদওয়ান সিদ্দিক ববির সার্বিক পরিচালনায় এবং অনলাইন প্রযুক্তিতে দক্ষ বেশ কিছু কর্মী নিয়ে খুব দ্রুতই শুরু করা হবে আওয়ামী লীগের সাইবার প্রচারণা। এতে কিছু চৌকস এক্সপার্ট শিক্ষার্থীও যুক্ত থাকবেন।
এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সম্ভব হয়নি।