জাতীয় প্রধান খবর বরিশাল

কুয়াকাটার অস্তিত্ত্ব হুমকির মুখে

Kalapara-01 (07-09-13) 01মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া থেকে, ০৭ সেপ্টেম্বর ॥ আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতকে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের তান্ডব থেকে রক্ষাকল্পে প্রতিরক্ষা মূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও এখানকার ঐতিহাসিক এবং আধুনিকভাবে গড়ে ওঠা মূল্যমান স্থাপনা, পর্যটকদের আকৃষ্ট করার স্পটগুলো নিশ্চিহ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবনা আকারে দেয়া প্রায় ২৯ কোটি টাকার প্রকল্পটির এখন পর্যন্ত অনুমোদন কিংবা প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না দেয়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমের ভাঙ্গন ঠেকাতে বাংলাদেশ পাউবো দক্ষিণ অঞ্চল জোন বরিশাল অধীন খেপুপাড়া পাউবো উপ-বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে একটি প্রকল্প প্রতিবেদন প্রস্তাবনা আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত কিংবা বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

দেশের অন্যতম সৌন্দর্য মন্ডিত সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, যেখানে বেলাভূমে একই পয়েন্টে দাড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এ কারণে কুয়াকাটায় ১২ মাস পর্যটকের ভিড় থাকে। এখানে প্রায় দু ’শ একর জমির ওপরে ফার্মস এন্ড ফার্মস প্রতিষ্ঠিত নাকিরেল বাগান, যা নারিকেল কুঞ্জ হিসাবে স্বীকৃত। একাধিক মনোরম বনাঞ্চল। ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি লেক, শাল ও তালবাগান। রয়েছে জেলে পল্লী। বেড়িবাঁধের বাইরে অত্যাধুনিক রেস্ট হাউস, মার্কেট ও হোটল গড়ে তোলা হয়েছিল। সর্বশেষ বন বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ইকোপার্ক। কিন্তু সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে সৌন্দর্য মন্ডিত স্পটগুলোর অর্ধেক সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এলজিইডির অত্যাধুনিক বাংলো কয়েক বছর আগেই বিলীন হয়। বর্তমানে জোয়ারের সময় পর্যটকের জন্য কোন ওয়াকিং জোন থাকেনা। অব্যাহত ভাঙ্গনে এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ পড়েছে চরম হুমকির মধ্যে।

প্রায় দেড় যুগ ধরে সাগরের বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের আঘাতে কুয়াকাটা সৈকতের পরিধি ক্রমশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত তিন বছরে সৈকতের পরিধি ফি বছর অন্তত ৪০ ফুট সাগর গিলে খেয়েছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে সৈকতের দীর্ঘ এলাকা সাগর বক্ষে বিলীন হয়। নতুন করে ভাঙ্গন কবলিত হয়ে পড়েছে মাঝিবাড়ি এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপ সংরক্ষণ প্রকল্প। ফলে স্থাপনাসহ সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকা নিয়ে হাজার কোটি টাকার স্থাপনাসহ সম্পদ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। গত তিন বছর সাগর যেন মরণ ছোবলে এসব স্থাপনায় হামলে পড়ছে। ঝাউবাগান, নারিকেল, তাল বাগান এবং দোকানপাট গিলে খেয়েছে। এখন মূল বেড়িবাঁধ রয়েছে ঝুকির মধ্যে। শুধু তাই নয় সৈকতের প্রশস্ততা কমে গেছে। ফলে জেলা বোর্ডের, এলজিইডির, সড়ক ও জনপথ, পর্যটন কর্পোরেশন, বেসরকারী ডাকবাংলোসহ অন্তত ৫০টি ছোট বড় আবাসিক হোটেল, চার কিমি বেড়িবাঁধ ও তৎসংলগ্ন জমি, রাখাইন কালচারাল একাডেমী, রাখাইন পল্লী, আবাসিক এলাকা, বিদ্যুৎ লাইন, পাকা সড়ক সকল সম্পদ হুমকির মুখে। সেই সঙ্গে বিলীন হবে দেশের জাতীয় সম্পদ সৌন্দর্যমন্ডিত দীর্ঘ সৈকতটি। এসব রক্ষায় ভাঙ্গনরোধে পাউবোর স্থানীয় উপ-বিভাগ প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সিসি ব্লক ফেলে সৈকতের সৌন্দর্য মন্ডিত স্পট, স্থাপনা রক্ষায় প্রকল্পপ্লানসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বরাদ্দ চেয়ে ২০০৩ সালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে পাউবোর প্রধান প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্থ ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আজ অবধি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি। প্রকল্পটির কোন অনুমোদন মেলেনি। স্থানীয় সকল শ্রেণীর সাধারণ মানুষের মন্তব্য জরুরি প্রটেকশন করে বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা চলছে, কিন্তু সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বেড়িবাঁধসহ কোন কিছুই রক্ষা হবে না। সব সাগর বক্ষে বিলীন হবে। ফলে কুয়াকাটার অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়াস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফি উদ্দিন জানান, প্রকল্পটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত তাদের জানা নেই।