আন্তর্জাতিক

মঈনুদ্দিনের বিচার দাবি নিয়ে তৎপর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস

লন্ডন প্রতিনিধি, হটনউজ২৪বিডি.কম: একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল নায়ক হিসেবে অভিযুক্ত ব্রিটেন প্রবাসী চৌধুরী মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস।

গত মাসের শেষ Probash-sm20130905091610দিকে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেয়ার পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ডাইরেক্ট কমিউনিকেশন ইউনিট থেকে নির্মূল কমিটিকে লেখা এক চিঠিতে চৌধুরী মঈনুদ্দিন বিষয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের এই নড়ে চড়ে বসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ডাইরেক্ট কমিউনিকেশন ইউনিট থেকে লেখা চিঠিতে নির্মূল কমিটিকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিষয়ক ইস্যু নিয়ে নির্মূল কমিটির যোগাযোগ ও স্মারকলিপি দেয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। উথ্থাপিত অভিযোগটি যেহেতু ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস এবং মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স’র এখতিয়ারভুক্ত বিষয়, সেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে স্মারকলিপিটি ঐ দুই সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস এবং মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স নির্মূল কমিটির সাথে এ বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করবে।

বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আনসার আহমেদ উল্লা হটনিউজকে বলেন, ব্রিটেনে বসবাসরত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন যাবত ক্যাম্পেইন করে আসছি। এ বিষয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের তৎপর হওয়ার খবর আমাদের এই ক্যাম্পেইনে নিশ্চয়ই আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই খবরটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি আমরা।

শহীদ সন্তান মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনির, তাঁর বাবার হত্যার সাথে জড়িত চৌধুরী মঈনুদ্দিন বিষয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের তৎপর হওয়ার খবরকে স্বাগত জানিয়ে হটনিউজকে বলেন, চৌধুরী মঈনুদ্দিনসহ প্রবাসে আশ্রয় নেয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় নেয়ার নির্মূল কমিটির ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকেও এ বিষয়ে আরও তৎপর হওয়া উচিত।

আসিফ মুনীর নির্মূল কমিটির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে গত মাসে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে স্মারকলিপি দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে চৌধুরী মঈনুদ্দিনসহ ব্রিটেনে বসবাসরত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি নিয়ে নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা ও সহসাধারণ সম্পাদক জামাল খানের নেতত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেন।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের জন্মের প্রাক্কালে বাঙালির শ্রেষ্ট সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের অপারেশন ইন চার্জ ছিলেন চৌধুরী মঈনুদ্দিন। বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭২ সালে তিনি ব্রিটেনে পালিয়ে আসেন। এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড গোপন রেখে আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
পাশাপাশি দাওয়াতুল ইসলাম, ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ, মুসলিম এইড ইত্যাদি সংগঠনের নামে মুসলিম কমিউনিটির হর্তাকর্তা সেজে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিন ধাপে ধাপে ব্রিটিশ কমিউনিটিতে নিজেকে ইসলামের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেন।

স্মারকলিপিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসের ঘৃন্যতম গণহত্যার সাথে জড়িত, বুদ্ধিজীবী হত্যার অপারেশন ইন চার্জ চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে বিচারের আওতায় নেয়ার বাংলাদেশের এই উদ্যোগে ব্রিটেনের সহযোগিতা সভ্যতার দাবি।

চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর বা ব্রিটেনেই তাঁর বিচারের উদ্যোগ নেয়ার জন্যেও আহবান জানানো হয়।