অপরাধ বরিশাল শিক্ষাঙ্গন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা

Borishal-0120130905123024 (1)নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল, ৫ সেপ্টেম্বর :  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাওতাকে (২০) প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার সহপাঠী ও প্রেমিক রাসেল মাতুব্বর।

সাওতা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাতেমপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। সে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান (একাউন্টিং) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে প্রেমিক রাসেল মাতুব্বর পলাতক।
এ ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সাওতাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হামলাকারী রাসেল মাতুব্বরও একই উপজেলার কেরামতপুর গ্রামের হারুন মাতুব্বরের ছেলে। সে ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যলয় সূত্র জানিয়েছে, রাসেল ও সাওতার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবণতি হয়।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখয়াত হোসেন জানান, সাওতা ব্রাউন কম্পাউড সড়কের একটি ভবনে অন্যান্য ছাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো। সে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাওয়ার জন্য ওই ভবন থেকে বের হয়ে সড়কে ওঠার পর পরই সেখানে অপেক্ষায় থাকা রাসেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা সাওতাকে উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। দুপুরে তার অবস্থা আশংঙ্কাজনক হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ জানান, তিনি শুনেছেন যে রাসেল ও সাওতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাসেল এক সময় সাওতার প্রাইভেট শিক্ষক ছিল। কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে সাওতাকে লাঞ্ছিত করে রাসেল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে দু’জনকে ডেকে সতর্ক করে এবং শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। ওই ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়রিও করে বলে ভিসি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় অভিযুক্ত ছাত্র রাসেলের বিরুদ্ধে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।