জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

সংবিধান রক্ষা হবে, গদি রক্ষা হবেতো?-ড. আকবর আলী খান

national-parlament20130904191325আছাদুজ্জামান ,হটনিউজ২৪বিডি.কম, ৫ সেপ্টেম্বর:  শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সংবিধান রক্ষা করতে পারবেন, কিন্তু গদি রক্ষা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

হটনিউজ২৪বিডি.কমকে এই আশংকার কথা জানিয়ে তারা বলেছেন, এই মুহূর্তে একমাত্র আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে নয়।
এমনকি মহাজোটভূক্ত অন্যান্য শরীক দলগুলোও একটি সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্যে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন।

তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুখ থেকেও শুনেছি তারা সংবিধানের বাইরে কিছু করবেন না।
তিনি তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী জিনিস তা বুঝতে চাননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অনেক অমূলক কথাও বলেছেন খালেদা জিয়া এবং তার পরিষদবর্গ।
অবশেষে চূড়ান্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করাতে সক্ষম হয়। পরবর্তী নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।’

নিকট অতীতের এসব কথা নিশ্চয় আমরা ভুলে যায়নি? প্রশ্ন রেখে ড. আকবর আলী খান আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন তিনিও সংবিধানের বাইরে কিছু করবেন না।
সংবিধান রক্ষার এত গরজ লক্ষ্য করা যায় শুধু মাত্র ক্ষতাসীনদের মধ্যে। যে যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সে সংবিধানের দোহাই দিয়ে চলতে চান।

এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি সংবিধানে কী ছিল, আর পঞ্চদশ সংশোধনীর পর কী দাঁড়িয়েছে। তবে এটা ঠিক, দেশের সংবিধান রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সংবিধান রক্ষা করতে গিয়ে যদি সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা করতে ব্যার্থ হয় তাহলেতো শেষ পর্যন্ত গদি রক্ষা করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এমনটি অতীতে আমরা দেখেছি বার বার। এদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন কিছু নয়।’

আগামী নির্বাচন এবং অর্ন্তবর্তী সরকার নিয়ে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে যে বিপরীতমূখি অবস্থান রয়েছে সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যেভাবে সাজিয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কারণ সংসদ না ভেঙ্গে, মন্ত্রী পরিষদ বহাল রেখে নির্বাচন করার মত গণতন্ত্র এখনো আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তার চেয়েও বড় সত্য হলো সরকারের এই প্রক্রিয়ার নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশ নেবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

তারা নির্বাচন বয়কটের পাশাপাশি প্রতিরোধেরও হুমকি দিচ্ছেন। এই অবস্থায় গণতন্ত্র, রাজনীতি এবং সংবিধানের ভবিষৎ নিয়ে শংকিত দেশের এই প্রথিতযশা আইনজীবি ও মানবাধিকারকর্মী। শংকিত তিনি সরকারের ভবিষৎ নিয়েও।