অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় রংপুর

১৮তম বঙ্গসোনাহাট পুর্নাঙ্গ স্থল বন্দরের কার্যক্রম শুরু

OLYMPUS DIGITAL CAMERAডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ আনুষ্ঠানিকভাবে পন্য আমদানী-রপ্তানীর মাধ্যমে আজ বুধবার যাত্রা শুরু হলো দেশের ১৮তম বঙ্গসোনাহাট স্থল বন্দরের কার্যক্রম। ফলে এই এলাকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা আর খেটে খাওয়া মানুষের কাজের ক্ষেত্র তৈরির নতুন দিগস্ত উন্মোচিত হওয়ায় সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। মঙ্গাপীড়িত এ জেলার মানুষ দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে ঘুড়ে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখছে এখন কুড়িগ্রামের মানুষজন। কুড়িগ্রাম বঙ্গসোনাহাট শুল্ক ষ্টেশনকে পুর্নাঙ্গ স্থল বন্দর ঘোষনা এবং কার্যক্রম চালু হওয়ায় “দিন বদলের সুখ ন্বপ্ন” দেখছে এ অঞ্চলের ব্যাবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন। এ বন্দর চালু হওয়ায় ভারতের ৭ অঙ্গরাজ্যের সাথে ব্যবসা-বানিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। ভারত থেকে আমদানী পন্য পরিবহনে ৪শ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হওয়ায় লাভবান হবে দু-দেশের ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দু-দেশে মালামাল আনা নেয়ার কাজ শুরু হয়। ভারত থেকে কয়লা, পাথর, তাজাফল, চাউল, গম, ভুট্টা, পিয়াজ-রসুন ও আদাসহ ১০টি পন্য আমদানী করবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে নির্দ্ধারিত পন্য রপ্তানি করা যাবে এ বন্দর দিয়ে। প্রথম দিনে ভারত থেতে ৪টি এলসির মাধ্যমে ৭৫ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই ট্রাক বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রংপুর অঞ্চলের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক। উদ্বোধনী সভায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ জে এম এরশাদ আহসান হাবিব এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক -মেজর সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ,সভাপতি সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন বিনয় কৃষ্ণ দাস,শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা, সরকার রকীব আহমেদ প্রমুখ । কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী বঙ্গ সোনাহাট শুল্ক ষ্টেশনকে পূর্নাঙ্গ স্থল বন্দর ঘোষনার । এ দাবি পুরন এবং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার লক্ষ করা গেছে। গত বছর ২৫অক্টোবর বন্দর ঘোষনা প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ্ঐ বছর ১১ নভেম্বরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান কুড়িগ্রামে এসে স্থল বন্দরের উদ্বোধন করেন। স্থলবন্দর চালুর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের উভয় পার্শ্বে সড়ক নির্মান সম্পন্ন হয়। এছাড়া সোনাহাট স্থলবন্দরের জন্য ১৫ একর জমি অধিগ্রহনসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর বন্ধ হয়ে যায় স্থল বন্দরটি। দীর্ঘ ৬৪বছর পর বন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ২৪ কিঃ মিঃ পথ পেরিয়ে ভারতের একাধিক প্রদেশে কম খরচে পণ্য আনা-নেয়া করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ৩৫০ কিঃ মিঃ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে হয়। এ বন্দর ব্যবহার করে ভারতের সেভেন সিষ্টারখ্যাত আসাম, মেঘালয়, মিজরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, হিমাচল ও অরুনাচল রাজ্যের সাথে সড়ক পথে দ্বি-পাক্ষিক বানিজ্যের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি পর্যটন ও পারস্পারিক সর্ম্পক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে বঙ্গ সোনাহাট স্থল বন্দর। বর্তমান সরকার বন্দরটি চালুর লক্ষ্যে সোনাহাট ব্রীজসহ সড়ক প্রশস্তকরন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মান কাজের পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন আপাতত: ভাড়া বাসায় সোনাহাট স্থল বন্দর অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটল সোনাহাট স্থলবন্দর চালুর মধ্য দিয়ে। আর স্থল বন্দর উপযোগী ভৌত অবকাঠামো দ্রুত নির্মানের মধ্য দিয়ে স্থলবন্দরটির কার্যক্রম পুরোদমে শীঘ্রই চালু হবে এমন প্রত্যাশা সবার। জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, এ স্থলবন্দর চালুর কারনে কুড়িগ্রাম জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য তথা আর্থ সামাজিক অবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটবে । কুড়িগ্রামের মানুষের মঙ্গা শব্দটি চিরতরে দূরীভূত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।