রাজশাহী লাইফ স্টাইল

নেশার নির্মমতায় অবক্ষয় শিক্ষা জীবন

download (1)বগুড়া অফিসঃ  নেশার নির্মমতায় ক্ষয়ে যাচ্ছে শিক্ষা জীবন। হতাশায় অভিভাবক মহল। ধ্বংসের মুখে শিক্ষা জীবন। মাদকের কারণে বেড়ে যাচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়,ক্ষয়ে যাচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ। ভেঙ্গে পড়েছে পারিবারিক বন্ধন।সমাজে তৈরী হচ্ছে আতংক। কাঁপন জাগছে সব মহলে মানুষের ঘরে ঘরে মনে মনে। মাদক কেড়ে নিচ্ছে জীবন, খুন হচ্ছে পিতা -মাতা, ভাই বোন, প্রেমিক প্রেমিকা। খুন করছে মাদকাসক্ত সন্তান,ভাই বন্ধকে।হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। বাড়ছে আতœহত্যা। সম্প্রতি আলোচিত ঘটে যাওয়া ঘটনা ঐশীর কাহিনী।যা দেশ ও জাতিকে করেছে হতবাক।এরকম নিণ্ঠুর নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে।প্রশ্ন উঠেছে ঐশী কি? তার বাবা মাকে খুন করেছে? নাকি মাদকাসক্ত এক কিশোরী খুন করেছে এক দম্পতিকে ? নাকি মরণ নেশা ইয়াবা নামক ভয়াবহ মাদকই খুন করেছে সেই পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তা স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বের হলে জানতে হবে ইয়াবা কি? কি শিক্ষা জাতি গ্রহণ করতে পারে এই ঘটনা থেকে? বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ মোজোম্মেল হক পিপিএম’র সার্বিক নিদের্শনায় সম্প্রতি ৪৮ ঘন্টায় ২২৩ জন অপরাধী গ্রেফতার হলেও বগুড়ার মাদক রাজ্যের বাসিন্দা চুনোপুটি ছাড়া ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে রাঘব বোয়ালরা। যে কারণে মাদক সমস্যা সেই তেমনিই রয়ে গেছে।পুলিশের উর্দ্ধর্তন কর্মকর্তারা মাদক নিমূলে কঠোর হলেও পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কতিপয় অসাধু সদস্যদের ভ’মিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা প্রতিদিন যে কয়জনকে গ্রেফতার করে তার বেশী ছেড়ে দেয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগে। ‘ধরো আর ছাড়ো’ বাণিজ্যে তারা লিপ্ত। অভিযোগ উঠেছে মূলত মাঠ পর্যায়ের কতিপয় পুলিশ সদস্য নিজেদের স্বার্থে মাদক ব্যবসা জিইয়ে রেখেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাঘব বোয়াল নামে পরিচিতদের সাথে রয়েছে সখ্যতা। একারণে উর্দ্ধর্তন কর্মকর্তাতের নির্দেশ থাকা স্বত্বেও রাঘব বোয়ালরা রয়েছে অধরা। চাপের মুখে দু’চারজন গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ(পুরান ভবন) রাস্তার পশ্চিম পাশে কলেজ বাজারের পিছনে ওয়ারলেস মাঠের ভিতরে, উপশহর কাঁচাবাজার এলাকা,শিববাটি আমতলা ব্রিজ, ফুলবাড়ি মধপাড়া নদীর ঘাট,জয়পুরপাড়া,মাটিডালি, সেউজগাড়ী আমতলী রেলওয়ে কলোনী, সেউজগাড়ী পালপাড়া, চকসুত্রাপুর হাড্ডিপট্টি, বাদুড়তলা কাটনারপাড়া, সুলতানগঞ্জপাড়া, চেলোপাড়া, গোদারপাড়া, ঠনঠনিয়াসহ শহরের এক শ’টি স্পটে মাদকের কেনা বেঁচা হয়। এছাড়াও শহরের সাতমাথা জেলা স্কুলের পাশে পাবলিট টয়লেট এলাকার একটি পান সিগারেট’র দোকানে, সাতমাথা পত্রিকা বিক্রেতাদের পিছনেসহ প্রানকেন্দ্র সাতমাথার আশ পাশে বেশ কয়েকটি পান সিগারেট’র দোকনে এসব মাদকের কেনা বেচা হয়। এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের উপশহর কাঁচাবাজারের দক্ষিন পাশে এবং আজিজুল হক কলেজ (পুরাতন ভবন)এর কলেজ বাজারের পিছনে মাদক স্পটে তাদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। অভিভাবক মহলের ধারনা, এসব স্পটে পুলিশের কড়া নজর থাকলে হয়তো কিছুটা পরিবেশ রক্ষা হবে। মরণ নেশায় আসক্ত এক অভিভাবক নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, মরণ ছোবলে উপশহর, ¯িœগ্ধা আবাসিক এলাকা, জলেশ্বরতরীতলাসহ শহরের অভিজাত এলাকার অসংখ্য ছেলে মেয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করছে, বিক্রি করছে,এমনকি পাইকাড়ি ব্যবসায়ও নেমেছে। পরিসংখ্যানে জানা যায়,এরা কোটিপতি শিল্পপতি, রাজনীতিক, আমলা এবং উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের স্কুল কলেজে পড়–য়া ছেলে মেয়ে। তবে মধ্যবিত্তদের সন্তানরাও এই মরণ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এই মাদক ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে। নেশার নির্মমতায় হতাশাগ্রস্থ অভিভাবকরা জানান, এই নির্মমতা থেকে শিক্ষা জীবন রক্ষা করতে পুলিশ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিস্ট সকলকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে। বগুড়া পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক পিপি জানিয়েছেন তিনি বগুড়ায় যোগদানের পর প্রায় ১৫ হাজার মাদক সেবী ও বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঘব বোয়ালও রয়েছে বিপুল সংখ্যক। তিনি বলেন, মাদক নিমূলে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কোন পুলিশের সখ্যতা রয়েছে এমন অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।