অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

১৫৬ কোটি টাকার জালিয়াতি বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭ হাজার কোটি !

sonali-bank20130902173205নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ সেপ্টেম্বর :  হলমার্ক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ ও আইসিএলসহ সকল কেলেঙ্কারি ছাড়িয়ে সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় বড় ধরনের জালিয়াতির খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

১৫৬ কোটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫৬ টাকার দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের কাছে ১৬ হাজার ৭৭০ কোটির দুর্নীতি ধরা পড়ল।
২০০৩-০৬ সালের দিকে সোনালী ব্যাংক, রমনা শাখা থেকে বিভিন্ন সময় নাম সর্বস্ব ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন প্রকার এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) মাধ্যমে এ টাকা উত্তোলন করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছে সোনালী ব্যাংক। এর প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
এর সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুর রহমান, ডিজিএম আলতাফ হোসেন হাওলাদারসহ জিএম, এজিএম, এসপিও এবং পিও পর্যায়ের বেশ কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, ১৩৪টি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ এলসি করে ৬ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা, বিটিবি এলসি খুলে ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি, ইললেন পার্সেস বিলের (আইবিপি) মাধ্যমে ২ হাজার ৫১ কোটি ৫৮ লাখ এবং প্যাকিং ক্রেডিটের মাধ্যমে ৫৯০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে জানান, ভূয়া রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে এলসি খুলে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড হিসেবের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে।
যা পরবর্তীতে দুদকের দেয়া তথ্য মতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাড়িঁয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রমনা কর্পোরেট শাখার বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগে মাদার এলসি খুলে এই টাকা ছাড় করা হয়। তবে এর সাথে আরো অনেক ব্যাংকের সম্পৃক্ত থাকার সম্ভবনা রয়েছে।
এই জালিয়াতি হলমার্ক কেলেঙ্কারির চেয়েও বড় ধরনের জালিয়াতি। এর সাথে সম্পৃক্ত অনেক কর্মকর্তাই পরবর্তীতে হলমার্ক কেলেঙ্কারির চালকের আসনে আসীন ছিল বলেও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
হলমার্ক কেলেঙ্কারি ঘটনা ফাঁস হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হলমার্কের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে এ শাখায় অডিট করলে তাদের সামনে এ ধরনের কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফেয়ার উইভিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড হিসেবে ১৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই শাখার এজিএম মো. মিরন মিয়া এ বছরের ১ জানুয়ারি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ৭।
এ মামলায় ফেয়ার উইভিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান রাবেয়া আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আবুল কাসেম ও সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আলতাফ হোসেন হাওলাদারকে আসামি করা হয়।
পরবর্তিতে শাহবাগ থানা মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পেলে এ বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে দুদকের কাছে হস্তান্তর করে। দুদদের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ তদন্তের দায়িত্ব পান।
তদন্তে তিনি দেখতে পান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিছু কর্মকর্তাকে বিভাগীয় শাস্তি দেয়া ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অর পাশাপাশি ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
সূত্র জানায়, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি ব্যাংকটির কাছে কোম্পানিটির অ্যাকাউন্টের সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে। কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে ব্যাংকের ১৫ থেকে ২০ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মামলার অন্যতম আসামি ডিজিএম আলতাফ হোসেনের অধিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সকল দায় অস্বীকার করে এক লিখিত বক্তব্যে জানান, আমি যা করেছি তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে করেছি।
তবে এর সাথে তৎকালীন কোন কোন মন্ত্রী বা এমপি জড়িত ছিল তা তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।