অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে জোর চেষ্টা

jsp-logo20130902053753নিজস্ব প্রতিবেদক হটনিউজ২৪বিডি.কম ,ঢাকা:  সোমবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে। ২৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই স্থগিতাদেশের কথা জানালেও ২রা সেপ্টেম্বর থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ সুবিধা ফিরে পেতে তাই শুরু হয়েছে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের দৌড়ঝাঁপ। আর এর সূত্র ধরেই কাজে গতি পেয়েছে শিল্প কারখানাগুলোর কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন। খোঁজ নিয়ে এমনটাই জানা যায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো থেকে।

বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, ইএবিসহ বড় সব ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নড়েচড়ে বসেছে জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধারের জন্য। এ নিয়ে কাজ করছে বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের রফতানিকৃত আয়ের মাত্র ২ শতাংশ জিএসপি সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হলেও এর ফলে পুরো আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক ইমেজ তৈরির আশঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ততকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সহ-সভাপতি মো: শহিদুল্লাহ আজীম বাংলানিউজকে বলেন, জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। তাছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্যান্ডি লেভিনও আমাদের গৃহীত সব পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আশা করছি আমরা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করতে পারবো।

অন্যদিকে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়শন অব বাংলাদেশ (ইএবি) থেকে জানা যায়, ব্যবসায়ী মহল ও সরকার জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধারে এরইমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শ্রম আইন সংশোধন ও পাস, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধান, আগে ছাঁটাই করা ইউনিয়ন নেতাদের চাকরি পুনর্বহাল, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওমেন সলিডারিটি(বিসিডব্লিউএস) এবং সোশ্যাল একটিভিটিস ফর দ্য ইনভায়রনমেন্টের (এসএএফই) নিবন্ধন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, প্রধান কলকারখানা পরিদর্শক অধিদপ্তরে চারজন পরিদর্শক নিয়োগ, ৩৫ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন ইত্যাদি।

এছাড়া একটি প্রকল্পের আওতায় ২৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ও ২০০ জন পরিদর্শক নিয়োগে কাজ চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানা পরিদর্শক অধিদপ্তরে ২০০ পরিদর্শক নিয়োগের শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসব বিষয়ে ইএবি সভাপতি সালাম মোর্শেদী বাংলানিউজকে বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কর্মপরিবেশ উন্নত করার জন্য আমেরিকা যে সময় দেয়া হয়েছ তা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো বলে আশা করছি। সরকার ও আমরা একই সাথে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। যদিও আমাদের বেশিরভাগ পণ্য জিএসপি সুবিধা পায় না তবুও এই সুবিধা বাতিল হলে পুরো বিশ্বে আমাদের ইমেজ সঙ্কট হতে পারে বলেই আমরা সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।

গত বছর জিএসপি সুবিধার আওতায় তিন কোটি ৪৭ লাখ ডলারের তামাক, ক্রীড়া সরঞ্জাম, চীনা মাটির তৈজসপত্র ও প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়েছে। এতে শুল্ক ছাড় পাওয়া গেছে প্রায় ২০ লাখ ডলার।১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছিল।

প্রসঙ্গত গত ২৭ জুন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার এবং শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না অভিযোগ এনে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়। সংশোধিত শ্রম আইনসহ জিএসপি পুনর্বহালের বিষয়ে ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে শুনানি অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।