জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর হটনিউজ স্পেশাল

১১ সেপ্টেম্বর ভাগ্য নির্ধারণ হবে বন্ধকৃত দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির

dada-match-020130901185204 (1)আছাদুজ্জামান, ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর : আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ভাগ্য নির্ধারণ হবে বন্ধকৃত দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির।

ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাদা ম্যাচসহ প্রতিশ্রুত অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। ওই সভায় খুলনা আওয়ামী লীগ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলেও বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খুলনার ঐতিহ্যবাহী দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালুর জন্য বিগত ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনার জনসভায় প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে খুলনাবাসী আশায় বুক বেঁধেছিল বিসিআইসি‘র আওতায় দাদা ম্যাচ চালু হবে এমনটি ভেবে।
কিন্তু দীর্ঘ আড়াই বছরেও প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। ইতোমধ্যে বকেয়া না পেয়ে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন দাদা ম্যাচের ৬২ জন শ্রমিক-কর্মচারী। কিন্তু বরফ গলেনি সরকারের।
সর্বশেষ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর খুলনার দাদা ম্যাচসহ অন্যান্য প্রতিশ্রুত বিষয় নিয়ে আলোচনার দিন ধার্য করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
ওইদিন খুলনার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ইতোমধ্যেই খুলনার প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চাওয়া হয়েছে। সব কাগজপত্র দেয়া হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি দ্রুত বিসিআইসি‘র আওতায় চালুর দাবিতে দাদা ম্যাচ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইউনিয়নের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন দিলখোশ মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনির আহমেদ, শ্রমিক লীগের নগর যুগ্ম- সম্পাদক সাহিদুজ্জামান মনু, শ্রমিক দলের নগর সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক ফেডারেশনের শহর সম্পাদক এসএম ফারুক-উল ইসলাম, টিইউসির রুস্তম আলী হাওলাদার, রঙ্গলাল মৃধা, হাবিবুর রহমান দুলাল, শাহজান জাহাঙ্গীর, আকবর হোসেন দুলাল, আঃ রব সরদার, সৈয়দ শামছুর রহমান, ফারুক হোসেন, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম শাহাদাৎ।
সূত্রমতে, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে উৎপাদন বন্ধের পর ওই বছর ১৮ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় রূপসা ষ্ট্র্যান্ড রোডের দাদা ম্যাচ ফ্যক্টরি।
উৎপাদন বন্ধের পর থেকেই বিসিআইসির পূর্ণ মালিকানায় মিলটি চালুর কথা বলা হয়। ভাইয়া গ্রুপের মালিকানায় থাকা মিলটির সকল সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণেও নেয়া হয়। এরপর চলে সরকারের সাথে মালিক পক্ষের মামলা।
এরই মধ্যে ২০১১ সলের ৫ মার্চ খুলনায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন ‘বিসিআইসির আওতায়ই দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু হবে’।
প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও ত্বড়িৎ ব্যবস্থা নিয়ে মিলটি চালুর ব্যাপারে পত্র চালাচালি করে। কিন্তু স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তদারকির অভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এ ফ্যাক্টরীটি চালু হয়নি।
গত বছর ১৭ মে অনুষ্ঠিত এক সভায় দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু করতে হলে শিল্প মন্ত্রণালয়কে মিলটির শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। সেই সাথে ৫ বছরের একটি বিজনেস প্ল্যান থাকতে হবে এবং মিলের পুরানো দায়-দেনা সম্বন্ধে কি করা যায় সে ব্যাপারেও পরামর্শ থাকতে হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় শিল্প মন্ত্রণালয়।

ওই সভার সূত্র ধরে ২৭ মে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবারও বৈঠক হয়। বৈঠকে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শতভাগ মালিকানা বিসিআইসি’র আওতায় নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি মিলটি বিসিআইসি’র আওতায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
এজন্য এক মাসের মধ্যে বিসিআইসি মিলের সকল সম্পত্তি বুঝে নেবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই সভার পর পরই শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া চীন সফরে যাওয়ায় বিষয়টি থমকে যায়। জুনের শেষের দিকে শিল্পমন্ত্রী দেশে আসলেও এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আবারও বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের আগেই মিলটির মেইনটেন্যান্স কাজ শুরু করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
এমনকি মিলটি এখনও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পাহারায় রয়েছে কয়েকজন পুলিশ ও আনসার সদস্য।