জাতীয় ঢাকা

মৃদু ভূমিকম্পনে মাওয়া পুরাতন ঘাট বিলীন

DSC00814আব্দুস সালাম, মুন্সিগঞ্জ:  মৃদু ভূমিকম্পনের পর পদ্মায় দেখা দেয় ফাটল। মহুর্তেই ধসে পড়ে মাওয়া পুরাতন ফেরীঘাট এলাকা। অশান্ত পদ্মার ছোবলে দক্ষিনবঙ্গের প্রবেশ দুয়ার মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে পরিত্যক্ত পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় আকস্মিক ভাঙ্গনে পুরনো ফেরীঘাট সড়কে অসংখ্য ফাঁটল দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড ঘূর্ণাবর্তে মধ্য রাতে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে জামে মসজিদ, ৩ টি দোকানঘরসহ ৪ টি বসত-ঘর। ফলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। শনিবার সন্ধ্যায় পদ্মার রুদ্রমূর্তিতে এক বছর পর ফের বিপন্ন হয়ে উঠেছে মাওয়াঘাটের পুরনো এই ফেরীঘাট ও তৎসংলগ্ন বিস্তীর্ণ জনপদ।
রবিবার বেলা ১২ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সরেজমিনে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া ৩ নম্বর পুরাতন পরিত্যক্ত ফেরীঘাটে গিয়ে দেখা গেছে প্রমত্বা পদ্মার রুদ্রমূর্তির হাত থেকে বাঁচতে বসত-ভিটে ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয়ে ছুটছেন শতাধিক পরিবার। সরিয়ে নেওয়া হচ্চে আরো অর্ধশত দোকানপাট। ভাঙ্গনের মুখে যে কোন মূহুর্তে নদীগর্ভে বিলীনের অপেক্ষা করছে শতাধিক বসত-ঘর, পুরনো ফেরীঘাট মাজারও।
মাওয়াস্থ ৩ নম্বর পুরনো ফেরীঘাট জামে মসজিদটি শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে পদ্মার অনবরত ঘূর্ণাবর্তে বিলীন হয়ে যায়। মসজিদের মোয়াজ্জেন লোকমান শেখ ভাঙ্গনের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন- এমন ভাঙ্গন-তান্ডব এর আগে কখনো চোখে দেখেনি। দেখলে রীতিমত ভয় পাওয়ার মতো শরীর শিহরে উঠে। তিনি জানান, শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে চোখের পলকে পদ্মার ঘূর্ণাবর্তে ৩ নম্বর পুরনো ফেরীঘাট জামে মসজিদটি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের তীব্রতায় ভীতসন্ত্রস্ত পরিত্যক্ত ফেরীঘাট সংলগ্ন কুদ্দুম মিয়ার ২ টি বসত-ঘর, দিলীপের ১ টি ও কবীর হোসেনের ১ টি বসত-ঘর বিলীন হয়েছে ওই মধ্যরাতে। একই রাতে পরেশ, সামাদ ও হাবীবের ৩ টি দোকানও পদ্মা গর্ভে হারিয়েছে ভাঙ্গনের মুখে। শনিবার মধ্য রাত ১২ টা থেকে আজ রোববার ভোর পর্যন্ত পদ্মার রাক্ষুসি ছোবল হানে বলে স্থানীয়রা দাবী করেন। তারা আরো জানান, এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় পদ্মায় আকস্মিক ভাঙ্গনে ৭ টি দোকান-ঘর ও ৩৫ ফুট সড়ক পদ্মায় বিলীন হয়ে যায।
এদিকে, মাওয়ার ৩ নম্বর পুরনো ফেরীঘাটের সড়কে অসংখ্য স্থানে ফাঁটলের সৃষ্টি হয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। সড়কের এখানে-সেখানে কমপক্ষে ২০ টি ফাঁটলের চিহ্ন স্থানীয়দের চোখ ছানায় ভরে গেছে। যে কোন মূহুর্তে ওই ফাঁটলের স্থান গুলো পদ্মায় আঁছড়ে পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন লৌহজং থানার ওসি জাকিউর রহমান। তিনি জানান, পুরনো ফেরীঘাটে বড় বড় ফাঁটলের দৃশ্য সেখানকার বাসিন্দাদের আতংকিত করে তোলেছে। খন্ড খন্ড ভাবে ছোট ছোট ফাঁটল গুলো ভেঙ্গে আঁছড়ে পড়ছে পদ্মাবক্ষে। তিনি বলেন, পুলিশ ভাঙ্গন কবলিত মাওয়া ৩ নম্বর পুরনো ফেরীঘাট এলাকা পর্যবেক্ষন করছে। যে দুর্যোগ মূহুর্তে পুলিশ ভাঙ্গন কবলিতদের পাশে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভাঙ্গন আতংকে বাপ-দাদার বসত-ভিটে থেকে বসত-ঘরবাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছেন সেখানকার শত পরিবার।
এ ব্যাপারে মাওয়াঘাট নদীবন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন- শনিবার সন্ধ্যায় আকস্মিক এই ভাঙ্গন দেখা দেয়। মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভাঙ্গন তান্ডব চলে। ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে শতাধিক বসত-ঘর, দোকানপাট ও মাজার।