অপরাধ রাজশাহী

নাটোরে মেডিকেল ছাত্রী অপহরণকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা

33138_17-07-13_index7মোঃ মাহফুজ আলম মুনী:  নাটোরে রাজশাহী প্যারা মেডিকেল কলেজের এক মেধাবী ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনাকে সাজানো নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করে নাটোর থানা পুলিশ অপহরণকারীদের বাঁচাতে তরিঘরি করে মামলার ফাইনাল রির্পোট দিয়ে দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাটোর থানার এসআই ফরিদুল ইসলাম দায়িত্ব পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তড়িঘরি করে অভিযুক্তদের বাঁচাতে মামলার ফাইনাল রির্পোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী মেডিকেল ছাত্রী তানজিলা ইসলাম কনা। তিনি আদালতে ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে না রাজী ও তদন্তকারী কর্মকতা পরিবর্তনেরও দাবী জানাবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর শহরের উত্তর পটুয়াপাড়া মহলার স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের মেজ মেয়ে রাজশাহী প্যারা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্রী তানজিলা আখতার কনার প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিক ভাবে সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ উপজেলার বারুহাস গ্রামের আসাব আলীর ছেলে আব্দুল জব্বার জনির সাথে বিয়ে হয়। আগে যৌতুকের কোন প্রসঙ্গ না থাকলেও বিয়ের আসরে বর পাঁচ লাখ টাকা দাবী করে। পরে মেয়ের বাবা চার ভড়ি সোনার গহনা ও ছেলেকে ব্যবসা করার জন্য আরো দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দেন। স্বামী জনি তারপরও নিয়মতি ভাবে তার স্ত্রী তানজিলাকে আরো টাকা এনে দেয়ার জন্য মারপিট করতে থাকে। তারাশের স্থানীয় বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন তার পরিষদে এ ব্যাপারে শালিশ করেও যৌতুকের জন্য নির্যাতন বন্ধ করতে পারেননি। পরে এক পর্যায়ে মারপিট সইতে না পেয়ে স্বামী, ভাসুর এবং শশুড়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তানজিলা আদালতে মামলা করেন। মামলার পর থেকে তানজিলার বর জনি বিভিন্ন কৌশনে তাকে দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ২১জনু বিকেলে শহরের মাদরাসা মোড় থেকে তানজিলাকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর ্একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করে তাকে দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টাও করা হয়। সেই চেষ্টা সফল না হলে সেদিনই ভোর রাত্রের দিকে নির্যাতিত তানজিলাকে নাটোর বাইপাস সড়কের পারভীন পাবলিক হাই স্কুলের কাছে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। ভোরে এলাকার লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তানজিলা নাটোর থানায় মামলা করলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মহিদুল ইসলাম তানজিলার বাবার কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবী করে। টাকা দিতে না পারলে মামলা তুলে নেয়ার কথাও বলে। তানজিলা বিষয়্িট লিখিত ভাবে পুলিশ সুপারকে জানালে পুলিশ সুপার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে একই থানার এসআই ফরিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। ফরিদুল ইসলাম দায়িত্ব পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে তড়িঘরি করে মামলার ফাইনাল রির্পোট দিয়েছেন। ফাইনাল রিপোর্টে তিনি বিষয়টিকে সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেছেন। বাদী তানজিলা বলেছেন, এসআই ফরিদুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর এক মিনিটের জন্যও তার সাথে কথা বলেননি বা দেখাও করেননি। তিনি কিছু মানুষের লিখিত বক্তব্যে বিষয়টি সত্য নয় বলে প্রমান করার চেষ্টা করেছেন। তানজিলার পরিবারের লোকজন অনেক খুঁজেও সে সব মানুষের অস্তিত্ব পাননি। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বাঁচাতে মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে এসআই ফরিদুল ইসলাম এমনটা করেছেন। তানজিলার বাবা স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, আমার তিন মেয়ের মধ্যে বড় দুই মেয়েকে একই আসরে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দিয়েছিলাম। যৌতুক ছাড়াই বড় মেয়ে সুখে থাকলেও মেজ মেয়েকে সাধ্যমতো সব কিছু দেয়ার পরও এমনটা হয়েছে। এখন প্রশাসনও আমাদের বিপক্ষে কাজ করছে। আমরা এখন কোথায় যাবো ? আলাহ ছাড়া আর উপায় দেখছি না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাটোর থানার এস আই ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মামলা করার সময় এজাহারেই ব্দাী তানজিলার সব বক্তব্য দেয়া আছে। এছাড়াও তানজিলা এবং তার বাবা-মার সাথে কথা বলে, স্বাক্ষীদের বক্তব্য ও মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখেই মামলার তদন্ত রিপোর্ট দায়িত্ব পাওয়ার ১২দিন পর জমা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার ড. নাহিদ হোসেন বলেন, মামলার বাদী তদন্ত রিপোর্ট এর বিরুদ্ধে আবারও না রাজি দিলেই প্রয়োজনে পুনঃতদন্ত করা যেতে পারে।