অপরাধ খুলনা

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

Kushtia_District_Map_Bangladesh-125কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া:  ২০১২-১৩ অর্থবছরে এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৭ নং হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শহীদ রফিকনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ এর জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কোন শহীদ মিনার দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নঈম তুহিন জানান, দু মাস আগে এখানে শহীদ মিনার তৈরী করা হবে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসলেও অদ্যবধি আর কেউ কোন খোঁজ নেননি। এরপরও ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবী করলেন তার ইউনিয়নে এসজিএসপি‘র শতভাগ কাজ হয়েছে। কোন দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। চেয়ারম্যানের দাবীর প্রেক্ষিতে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া শহীদ মিনারটি কোথায় জানতে চাইলে তিনি জানান, হয়ত কাজটি এখনো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব। একই ইউনিয়নের জয়রামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর ঢেউটিনসহ মেরামতের ১ লক্ষ টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে।

উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ইউনিয়ন গুলোতে সরাসরি বরাদ্ধকৃত প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার নামকাওয়াস্তে কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে একইভাবে আত্মসাৎ করেছে সংশিষ্টর ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপ সদস্য, সংশিষ্ট ট্যাক অফিসার ও কর্মকর্তারা।

উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, ২০১২/২০১৩ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৭ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১৭ টি, মথুরাপুর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৪ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১৬ টি, ফিলিপনগর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৬ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১৮ টি, রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে ১৩ টি, হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ২০ টাকার বিপরীতে ১৮ টি, পিয়ারপুর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৬ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১১ টি, রিফাইতপুর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৫ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১৭ টি, দৌলতপুর ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৬ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১৭ টি, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ৬ লক্ষ ৫০হাজার টাকার বিপরীতে ৫ টি, বোয়ালিয়া ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৩ লক্ষ টাকার বিপরীতে ১২ টি, খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৪ লক্ষ টাকার বিপরীতে ২০ টি এবং আড়িয়া ইউনিয়নে বরাদ্ধকৃত ১৩ লক্ষটাকার বিপরীতে ১২ টি প্রকল্প গৃহিত হয়। তবে, গত বছরে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার কারণে চিলমারী এবং মরিচা ইউনিয়নে এবার ২য় কিস্তির বরাদ্ধ আসেনি। সরেজমিনে। মথুরাপুর ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রে একটি ফটোষ্ট্যাট মেশিন ছাড়া অন্যন্য প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রিফাইতপুর ইউপির বিন্দিপাড়া পাতানের বাড়ি থেকে মমিন মন্ডলের জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃনির্মান বাবদ দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হলেও কোন কাজের অস্তিত্ব সেখানে খুজে পাওয়া যায়নি। ফিলিপনগর ইউনিয়নে ১৮ টি প্রকল্পের মধ্যে সিংহভাগ প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রাগপুর ইউনিয়নের ১৭ টি প্রকল্পের মধ্যে দুই একটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেখানে সামান্য কাজ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর হায়েতের বাড়ি হতে ঈদগাহ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সেখানে কোন কাজই হয়নি বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে। কথিত আছে ঐ ইউনিয়নের ট্যাক অফিসার ফারুক আহমেদ প্রতি লক্ষ টাকার প্রকল্পের জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়ে অফিসে বসে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দেন। দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যলিয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সেখানে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বলে ঐ বিদ্যলিয়ের শিক্ষকগণ জানিয়েছেন। এছাড়া ১৪ টি ইউনিয়নে নলকুপ ও স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ খাতে প্রায় ৭৭ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হলেও দু একটি নলকুপ স্থাপন করে তার সিংহভাগই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে সংশিষ্ট এলাকাবাসী জানিয়েছে । ১৪ ইউনিয়নে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনশক্তি খাতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও এ কাজের কোন ধরণের প্রমাণ চেয়ারম্যানগণ দেখাতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, তাদের নামে প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত অর্থের ৪০-৬০% ভাগ টাকা সংশিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কেটে নিয়েছেন। এর কারণ হিসাবে ঐ সদস্য জানান, ওই অর্থ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন সচিব, ইউএনও অফিস, ইঞ্জিনিয়ার ও ট্যাক অফিসারদের কমিশন হিসাবে কেটে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী জিলুর রহমান জানান, এলজিএসপি প্রকল্পের টাকা সরাসরি ইউনিয়নে আসে তাই শুধুমাত্র প্রাক্কলন ছাড়া তার কিছু জানার বা করার নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুন কুমার মন্ডল দায়সারা ভঙ্গিতে জানান, এ সংক্রান্ত তিনি কোন অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।