জাতীয় বরিশাল স্বাস্থ্য

২৭ হাসপাতালের ভাগ্য ‘লাল ফিতায়’

barisal20130831144537বরিশাল প্রতিনিধি, ৩১ আগস্ট:  আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে আটকে আছে বরিশাল বিভাগের ২৭ হাসপাতালের ভাগ্য। থেমে আছে বরিশাল বিভাগের অন্যতম চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা উন্নতীকরণ কর্মসূচি। এছাড়াও থেমে আছে বরিশাল বিভাগের ৫টি জেলা সদর হাসপাতালসহ ২১ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাস্তবায়ন কার্যক্রম। ব্যয় বরাদ্দ, চিকিৎসক ও নার্স সংখ্যা বাড়ানো হয় নি। তবে শয্যা সংখ্যা উন্নতীকরণের ঘোষণায় রোগী বেড়ে গেছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাড়ে ৪ বছর পূর্বে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালকে ১শ’ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়। কিন্তু শয্যা সংখ্যা উন্নীতকরণের বিষয়টি শুধুই কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে এখনও। একইভাবে ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠী সদর হাসপাতালগুলো ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করণের ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। কিন্তু এখনো ৫০ শয্যা নিয়েই চলছে ওই ৫টি হাসপাতালের কার্যক্রম। এছাড়া ৫০ শয্যা হিসেবেও যে জনবল থাকার কথা তাও নেই। ৫০ শয্যা অনুযায়ী ভোলা সদর হাসপাতালের ২২টি চিবিৎসক পদের মধ্যে এখনও শুন্য ১০টি। পিরোজপুর সদর হাসপাতালের ২২টি চিকিৎসক পদের মধ্যে শুন্য ৮টি। বরগুনা সদর হাসপাতালে ২২ টির মধ্যে শুন্য ১৪টি চিকিৎসক পদ। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৩ পদের মধ্যে শুন্য আছে ৯টি পদ। এদিকে, বর্তমান সরকার বরিশাল বিভাগের মোট ৩৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রর মধ্যে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ২১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। শয্যা অনুযায়ী রোগীদের জন্য বাড়ানো হয় নি বরাদ্দ। বাড়ানো হয় নি চিকিৎসক ও নার্স সংখ্যাও। সর্বশেষ চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দেো হয়। এ ঘোষণার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও জনবল বৃদ্ধি হয় নি। এমনকি বাড়ানো হয় নি বরাদ্দও। বরিশালের বেশ কয়েকজন সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রশাসক বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালের শয্যা উন্নীতকরণ একটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘোষণা দিলেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তারা আরও বলেন, হাসপাতালের শয্যা উন্নীতকরণের ঘোষণা দিলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক জাটিলতা রয়েছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই হয় না। সে অনুযায়ী বরাদ্দ ও জনবলও নিয়োগ দিতে হয়। পুরো বিষয়টি আমলাতান্ত্রিক। সরকারের উচিৎ এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া।”বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, “শয্যা উন্নীতকরণের সাথে সাথে জনবল বৃদ্ধি ও বরাদ্দও বাড়াতে হবে। তা না হলে রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।”