জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

‘আরেকবার ভোট চাই’- প্রধানমন্ত্রী

PM+11111নিজস্ব প্রতিবেদক, হটনিউজ২৪বিডি.কম: বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আন্দোলনের হুমকিতে তিনি মোটেও ভীত নন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেছেন, উনার আন্দোলনের বাতাসে আমার চুল নাকি উড়ে যাবে। আমি তো ঘোমটা দিয়ে থাকি, চুল দেখাতে পারি না। আমার কিন্তু পরচুলা নাই। যা আছে আসলই আছে।”

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে খালেদা জিয়ার পাল্টা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার আল্টিমেটাম কোথায় গেল?”

বিএনপির নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নাকচ করে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবিধান থেকে একচুলও নড়বে না।

তার ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে গত ২০ অগাস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, “জনগণের আন্দোলনের বাতাসে গেলেই কিন্তু চুল উড়ে যাবে। এমন আন্দোলন হবে, চুল উড়ে দিশেহারা হয়ে যাবেন। চুল তো থাকবেই না, অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি পড়বে।”

এর জবাবে শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বলেন, “যার মাথা থেকে পা পর্যন্ত নকল, উড়ে যাওয়ার ভয় তার আছে, আমার নেই।”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের হুমকির মধ্যেই ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচন সামনে রেখে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

ফলে শোক দিবসের এই জনসভায় শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে অধিকাংশ নেতার কথায় নির্বাচন প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে এসেছে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরেকবার নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য জাতির প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ অংশে পশ্চিমমুখী ৬০ ফুট দৈর্ঘের সভামঞ্চে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় জনসভা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার ও পোস্টার হাতে মিছিল নিয়ে উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মানুষের ভীড় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সীমানা ছাপিয়ে যায়। অনেক নেতাকর্মীকে টিএসসির পাশের সড়ক ও মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগের মূল সড়কে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

প্রথমে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন। বিকাল ৫টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছানোর পর সবার শেষে বিকাল ৫টা ৪০ এ বক্তৃতা শুরু করেন শেখ হাসিনা।

প্রধান অথিতির বক্তৃতায় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে। এই বিচারের রায় জাতি পেতে শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগ জনগণকে ‘কিছু দিতে’ ক্ষমতায় আসে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থেকে জনগণকে কিছু দেয়নি, নিয়েছে। নেয় নাই শুধু, বিদেশে পাচারও করেছে।”

খালেদা জিয়ার দুই ছেলের বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়টি বিদেশের কোর্টে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কি জবাব দেবেন বিএনপি নেত্রী?”

১৫ অগাস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনেরও সমালোচনা করে হাসিনা।

তিনি বলেন, “যেদিন আমি ব্যাথায়-বেদনায় কাতর সেই দিন বিএনপি নেত্রী জন্মদিন পালন করেন। অথচ ওই দিন তার জন্মদিন না। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি ১৫ অগাস্টে জন্মদিন পালন করছেন।

“তিনি কেক কেটে সাজুগুজু করে জন্মদিন পালন করেন। ওই দিন তিনি উৎসব করবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ তিনি এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না, তিনি স্বাধীনতা চাননি। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অত্যাচার-নির্যাতন এগুলোই তার কাজ।”

১৫ অগাস্ট বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা।

ওই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর নয় মাস পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারত থেকে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা।

সেই সময়ের কথা স্মরণ তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান আমাকে সেই বাড়িতে (বঙ্গবন্ধু ভবন) ঢুকতে দেয়নি। আমাকে দোয়া করতে দেয়নি।”

আদালতের রায়েই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে ‘সরতে’ হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গুলশানেও তো একটি বাড়ি নিয়েছিলেন। এরপরেও কেন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি দখল করলেন?

“আমরা ওই বাড়ি থেকে তাকে (খালেদা) উৎখাত করিনি। বাড়ি রক্ষা করতে আদালতে গিয়ে নিজেই উৎখাত হয়েছেন।”

‘খালেদা জিয়ার বিলাসী’ জীবনের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “ওই দিন (যে দিন খালেদা জিয়া তার ক্যান্টেনমেন্টের বাড়ি ছাড়েন) ফ্রিজে কি দেখেছিলেন তা আর বলতে চাই না।

“যখন বাড়ি ছাড়তে হলো তখন কি আকুল কান্না। জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরেও তার এমন কান্না দেখিনি,” বলেন শেখ হাসিনা।

বুয়েট শিক্ষার্থী সনি ও শিশু নওশীনের হত্যার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের (বিএনপি) হাতে কারো জানমাল নিরাপদ নয়। হত্য, খুন ও হত্যাকারীদের মদদ দেয়াই তাদের চরিত্র।”

বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দেয়া, কোরআন শরিফ পোড়ানো, ওয়াজ মাহফিলের নাম করে হেফাজতের সমাবেশে শিশুদের নিয়ে আসা এবং লাশ নিয়ে অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণও তিনি সমাবেশে তুলে ধরেন।

এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। আমার চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। বাবার মতো আমার লক্ষ্য মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চাই।”

এজন্য যদি বাবার মতো ‘বুকের রক্ত দিতে হয়’, তা দিয়েও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকারের কথা জানান শেখ হাসিনা।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস প্রমুখ জনসভায় বক্তব্য দেন।