জাতীয় ঢাকা

সেই বিল্ডিংটি এখন স্বাক্ষী

Pic- Sherpur Tat Millশেরপুর থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ শাকির: শেরপুর জেলা সদরে রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে মুক্তি যোদ্ধাদের সম্পদগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্পদ থাকা পরেও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কোন কাজেই আসছে না এসব সম্পদ। ফলে বেহাত হচ্ছে মুক্তি যোদ্ধাদের অনেক সম্পদ।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদের মধ্যে শেরপুর নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় মুক্তি যোদ্ধা উইভিং ফ্যাক্টরী একটি। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আয় বর্ধক একটি প্রকল্প ছিল এটি। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জেলা সদরে মুক্তি যোদ্ধাদের ভবিষ্যত আয় এবং তাদের কর্মসংস্থান করার লক্ষ্যে গড়ে তুলে দেন এ তাত মিল। তিনি মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে দিয়ে দেন এক একর জমি। সরকারী টাকায় গড়ে তুলা হয় তাতমিলের বিল্ডিং, তাত মিলের সকল মেশিন ও যন্ত্রপাতি। পুজি খাটানোর জন্য দেয়া হয় সহজ শর্তে ঋণ। প্রথম অবস্থায় বেশ কয়েক বছর এ তাত মিলে শাড়ী, লুঙ্গি ও বিভিন্ন ধরনের কাপড় তৈরী করা হচ্ছিল। এতে এখানে এলাকার বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানও হয়েছিল। এটা পরিচালনার জন্য দায়িতও দেয়া হয়েছিল কয়েক জন মুক্তি যোদ্ধা নেতাকে। প্রথমে ভালভাবেই চলছিল এ মিলটি। লাভের মুখ দেখতেও শুরু করে এ মিলটি। কিন্তু দায়িত্ব শীলদের দূর্ণীতির কারনেই এ মিলটির কার্যক্রম ৮০ দশকেই বন্ধ হয়ে যায়। ওইসব দায়িত্ব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের কথা না ভেবে তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যাস্ত হওয়ায় এ তাত মিলটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকে এ উইভিং ফ্যাক্টরীর মালামাল। মিলটির মালামালগুলো সম্পুর্ণই বেহাত হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন শুধুমাত্র স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে মিলটির সেই ঘরটি। তাও আবার ঘরটির দরজা জানালা কিছু নষ্ট হয়েছে আর কিছু চুরি করে নিয়ে গেছে লোকজন। খালি পেয়ে কয়েকটি ভূমিহীন পরিবার এখানে বসবাস শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার বিএনপি সরকারের আমলে এ ভবনটি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে কর্মজীবি মহিলাদের জন্য এখানে একটি মহিলা হোস্টেল করা উদ্যোগে নেয়া হয়। যার আয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যায করার কথা ছিল। ওই বছরের নভেম্বও মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই হোস্টেলের ভিত্তি প্রস্তও স্থাপন করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদেও একটি অংশের বিরোধীতার কারণে সে উদ্যোগও আলোর মুখ দেখিনি। ফলে কোটি কোটি টাকার মূল্যের সম্পত্তি ও সম্পদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উদ্যোগ নিলেই এখান থেকে আয় হতে পারে হাজার হাজার টাকা। যা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা যেত। মুক্তি যোদ্ধাদের কল্যানে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হওয়ায় ক্ষুব্ধ মুক্তি যোদ্ধারা। তাদের দাবী মুক্তি যোদ্ধারা মারা গেলে কাদের কল্যাণে এ সম্পত্তি কাজে লাগবে। তাই তাদের মৃত্যুর পূবেই যেন এ সমপদগুলো কাজে লাগানো হয়। যার সুফল মুক্তি যোদ্ধারা পেতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধাদের এসব সম্পদের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসেনর বক্তব্য জানতে গেলে কেউ এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলেন বিষয়টি নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। যাইহোক মুক্তি যোদ্ধাদের শেষ বয়সে এসেও যদি তাদের সম্পদ কাজে লাগাতে না পারা যায়, তবে এ ব্যাথা নিয়েই তাদের ইহ দুনিয়া ত্যাগ করতে হবে। এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান বলেন, মক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণেই এ উইভিং ফ্যাক্টরিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু মুক্তিযোদ্ধার লোভের কারণে এ সম্পদটি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বাজে আসতে পারেনি। এ সম্পদটি এখন আসে— আস্তে শেষই হয়ে গেল। আমাদের সম্পদটি আমরা রক্ষা করতে পারিনি। এ বিষয়ে মুক্তি যোদ্ধা আব্দুল ওয়াহাব যে সম্পদ মুক্তি যোদ্ধাদের কাজেই আসবে না, সেই সমপদ দিয়ে মুক্তি যোদ্ধাদের কি লাভ ? মুক্তি যোদ্ধারা যাতে বেচে থাকতেই এর সুফল পায় এটাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী। জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী জানান, আমরা ওই সম্পদটি রক্ষা করতে পারিনি এটা ঠিক। ওই সম্পদের উপর কিছু একটা করার মতো আমাদের হাতে তো কোন টাকা নেই। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী এখানে কিছু একটা করে দেক। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ উল্লেখিত উইভং ফ্যাক্টরিটিতে শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, এ এলকার শতশত মানুষ কাজ করে জীবন চালাতে। প্যাক্টরিটি বন্ধ্য হওয়ায় আমাদের এলাকারও বেশ ক্ষতি হয়েছে। তাই আমাদের দাবী সরকারী নিযন্ত্রনেই এখানে একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী করে দেয়া হউক।