আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিক ধরতে অভিযান

ডেস্ক রিপোর্ট,ঢাকা, ৩০ আগস্ট: মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসকারী শ্রমিকদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামি রোববার থেকে শুরু হবে এ অভিযান।

এজন্য পুলিশসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।
তবে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা বলছেন, এই অভিযানে হয়রানির বড় শিকার হবেন তারাই। বৈধতার সুযোগ পাওয়ার পরও দেশটিতে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক অবৈধ হিসেবে কাজ করছেন।
তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন এতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন হবার কোন কারণ নেই।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে রাজধানী শহর কুয়ালা লামপুর, সেলাংগর, পেনাং সহ শ্রমিকপ্রধান এলাকাগুলোতে এই অভিযান হবে। তারা বলছেন, মালয়েশিয়ায় এটাই সাম্প্রতিক সময়ের অবৈধ শ্রমিক ধরার সবচাইতে বড় অভিযান।
অন্যদিকে মালয়েশিয়াভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ক্যারাম এশিয়া জানিয়েছে দেশটিতে অবৈধ শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়ার লোকদের সংখ্যাই বেশি। এই অভিযানে এ দুটি দেশের শ্রমিকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
অবৈধ যেসব শ্রমিক গত বছর সুযোগ পেয়েও বৈধ হতে পারেন নি তাদেরও অবৈধ বিবেচনায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা আর কাজের সুযোগ পাবেন না এখানে।
এদিকে প্রবাসী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে , মালেয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেশির ভাগই সম্প্রতি বৈধ হবার সুযোগ নিয়েছেন এবং সেখানে বসবাসরত শ্রমিকদের বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই।
তবে বাংলাদেশী শ্রমিকরা বড়সড় ধরপাকড়ের খবরে আতংকে রয়েছেন। শ্রমিকরা দেশে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বলেছেন, সম্ভাব্য এই অভিযানে তাদের হয়রানি হবে।
উল্লেখ্য মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোন শ্রমিককে তারা দেশটিতে কর্মরত রাখবেন না। আর তাই তারা এই অভিযানে নামতে যাচ্ছেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে, মালয়েশিয়ায় মোট পাঁচ লাখের মত বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যাদের বড় একটি অংশ বৈধতার জন্য সেদেশের সরকারের দেওয়া সুযোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন।
বাকি আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজারের মতো শ্রমিক এই সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়ে এখনো অবৈধ অবস্থায় দেশটিতে রয়েছেন। তবে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণার পর তারা আত্মগোপন করেছেন।
ক্যারাম এশিয়া নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন বলছে মালয়েশিয়ায় বর্তমানে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা দু ‘লাখের মতো। কুয়ালালামপুরে সংগঠনটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী হারুনুর রশিদ বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন বৈধতার জন্য কাগজপত্র নিয়ে একটি মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীর কাছে গিয়েই বিপাকে পড়েছেন এই শ্রমিকেরা। অনেক শ্রমিক প্রতারিত হয়েছেন। তারাই এখন অভিযানে ধরা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হবেন।
সংগঠনটি আরও বলছে ,দেশটিতে এখনও নানা কাজে বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কেন মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাতে এমন বড় অভিযানে নামছে তা সঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
তবে হতে পারে দেশটিতে ইদানিং নানাধরনের অপরাধ বাড়ছে আর তাতে অভিবাসীদের প্রায়ই দায়ী করা হয় বলেই হয়ত মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ শ্রমিকদের সংখ্যা কমাতে চাইছে।
দেশটির কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে এসব অবৈধ শ্রমিকদের ধরে দেশে পাঠাতে মালয়েশিয়ার সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেড় লাখের মতো সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছে। এরাই অভিযানের নামবে।
এদিকে আগামি রোববার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে যাদের আটক করা হবে, তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে বৈধ কাগজ হাজির করতে। তা না পারলে আটকদের জায়গা হবে দেশটির ১২ টি ডিটেনশন সেন্টারে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস বলেন, ডিটেনশন সেন্টারে যাবার আগ পর্যন্ত তাদের তেমন কিছু করার নেই তবে তারপর থেকে তাদের দেশে ফিরতে সহায়তা করতে পারেন তারা।
উল্লেখ্য দেশটিতে অবৈধভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার এক সমঝোতায় পৌছায়, যার আওতায় বাংলাদেশ সরকার এখন শুধুমাত্র সরকারিভাবেই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ করছে।
কিন্তু যারা এখনও অবৈধভাবে সেখানে রয়ে গেছেন তাদের পুনরায় বৈধতার সুযোগ তৈরির চেষ্টা হবে কী না সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত কোন পদক্ষেপ নেই।
তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এই ধরপাকড়ে বাংলাদেশের শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই।