খেলা জাতীয় প্রধান খবর রাজশাহী

আখেরুন নেছা ২৭ বছর ক্রীড়াঙ্গনে

MUGOL0000বগুড়া অফিস,হটনিউজ২৪বিডি.কম:  ক্রীড়া জগতে ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন বগুড়ার মেয়ে আখেরুন নেছা। শুধু যে নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন তা নয়, দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তার ঝুলিতে জমা পড়েছে সোনা ও রুপার পদকসহ দেড় শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।

আখেরুন নেছার বয়স যখন মাত্র দুই বছর তখন তার পিতা আব্দুর রহমান তালুকদার মারা যান। এরপর বড় ভাই মাহবুবুর রহমান ও হারুনার রশিদের কাছে বড় হন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাংলাদেশ আনসারের সেলাই প্রশিক্ষণে গিয়ে ভলিবল ও হ্যান্ডবল খেলার মধ্য দিয়ে তার ক্রীড়াজগতে প্রবেশ।

পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে তিনি একদিন আজকের এই অবস্থানে আসতে পারবেন এমনটা কল্পনাও করা যেতো না। অর্থাভাবে কলেজের দরজাও পেরুতে পারেননি আখেরুন নেছা।

সেলাই প্রশিক্ষণে গিয়ে ১৯৮৬ সালে আনসারের হয়ে প্রথমে ঢাকায় ও পরে নেপালে খেলার সৌভাগ্য হয় তার। তারপর থেকেই জয় ও শ্রেষ্ঠত্বের নেশা পেয়ে বসে তাকে।

ওই বছরেই অ্যাথলেটিক্সে আত্মপ্রকাশ করে স্বর্ণজয় করেন আখেরুন নেছা। শুরু হয় কঠোর অনুশীলন। ১৯৮৮ সালে ২০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় তার গড়া জাতীয় রেকর্ড আজও অক্ষত রয়েছে।

জেভলিনে (বর্ষা নিক্ষেপ) ১৯৯০ থেকে শুরু করে আজও ধরে রেখেছেন তার শ্রেষ্ঠত্ব। এক্ষেত্রে তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র অ্যাথলেট, যিনি ১৯৯২ থেকে জেভলিনে স্বর্ণপদক জিতে পরপর ৪ বার নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন।

অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিত হলেও ক্রীড়াজগতে প্রবেশ তার হ্যান্ডবল ও ভলিবল দিয়ে। ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই দুই ইভেন্টে ৬ বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধিনায়কত্ব করে ২০১৩ পর্যন্ত ৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ারও গৌরব অর্জন করে আখেরুন নেছার দল।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নেপাল, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন আখেরুন নেছা। আখেরুনের কৃতিত্বেই ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মেয়েরা কলম্বো সাফ গেমসে ভলিবলে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।

পরবর্তী সময়ে ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ক্লাব/প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক হিসেবেও নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন আখেরুন নেছা। বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুর আইডিয়াল কলেজে হ্যান্ডবলের কোচ হিসেবে এবং বিজেএমসিতে উচ্চমান সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন।

আখেরুন নেছা হটনিউজকে জানান, ‘বগুড়ার মেয়ে হিসেবে ক্রীড়াজগতে খুব একটা পরিচিতি ছিলো না আমার। কিন্তু গণমাধ্যমই বগুড়ার মেয়ে হিসেবে আমাকে দেশ ও বিদেশে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তাই আমি চাই, বগুড়ায় ভালো ভলিবল ও হ্যান্ডবল খেলোয়াড়সহ ভালো অ্যাথলেট গড়ে উঠুক। এজন্য আমাকে কোচ থেকে শুরু করে যেকোনো পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হলে আমি তা পালন করবো।’

ইচ্ছে থাকলে যে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেকে তুলে ধরা যায়, তার প্রমাণ আখেরুন নেছা নিজেই। বর্তমান সমাজে শিশু বয়সে বাবাহারা একটি মেয়ের এত দূরে আসা যেন কল্পনাকেও হার মানায়।

সাফ গেমস থেকে শুরু করে বিদেশের মাটিতে বহু খেলায় দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন আখেরুন নেছা। তার এখন একটাই ইচ্ছা, শেষ জীবনে কোচ হয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা।

বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, আখেরুন নেছা শুধু বগুড়া নয়, সারাদেশেরই গৌরব।