অর্থ ও বাণিজ্য চট্টগ্রাম জাতীয়

বান্দরবানে রাবার বিপ্লব

image_20961ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,বান্দরবান: বান্দরবানে রাবার চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে চাষিরা। রাবার চাষ পরিবর্তন করে দিয়েছে হাজারো শ্রমিকের ভাগ্য।

জেলার মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে ১৯৮৩ সালে প্রথম রাবার চাষ শুরু হয়। এখানে গুটিকয়েক ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি এ চাষ শুরু করে।

চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ, শিল্পপতি সুফি মিজানুর রহমান, প্রফেসর নাজিম উদ্দীন, চৌধুরী হুমায়ুন কবির, কাবিল হোসেনসহ অনেকে এখানে রাবার বাগানের সূচনা করেন। সরকারের জমি লিজ নিয়ে এখানে রাবার চাষের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ করেন চাষিরা। কিন্তু শুরুর দিকে রাবারের বাজার দর কম থাকায় অনেক কোম্পানি তাদের শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধে হিমশিম খায়। এজন্য অনেকে রাবার চাষ বন্ধও করে দেয়। পরবর্তীকালে রাবারের বাজার দর চড়া হওয়ায় অনেকেই আবার এর চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

বর্তমানে রাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় বড় কোম্পানি ছাড়াও ঘরোয়াভাবে স্বল্প জমিতে রাবার চাষ শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাইশারী ইউনিয়নের তিনটি মৌজায় ঈদগড়, বাইশারী ও আলীক্ষ্যংয়ে ১০ হাজার একর পাহাড়ি জমিতে রাবার চাষ করা হয়েছে। এতে নিযুক্ত রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। এই রাবার চাষ বদলে দিয়েছে এখানকার কৃষকদের ভাগ্য। রাবার খাত থেকে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব পাচ্ছে। উৎপাদিত হচ্ছে কোটি টাকার সাদা সোনা।

এ বিষয়ে পিএইচপি রাবার প্রকল্পের সিনিয়র ব্যবস্থাপক আবুল হোসেন বলেন, আবহাওয়া ও মাটির গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রাবারের চেয়ে বাইশারীর মাটি থেকে উৎপাদিত রাবার মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত রাবারের চেয়ে উন্নত। কিন্তু এখানে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারনে রাবার প্রসেসিং করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলে এখানেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো রাবার সামগ্রী তৈরি করা যেত এবং আরো অনেক লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হতো।

এদিকে, নাজমা খাতুন রাবার এস্টেটের ব্যবস্থাপক আল আমিন জানান, রাবার চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়লেও এখানে চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতির প্রবণতা বাড়ায় ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে দিন দিন রাবার চাষের জনপ্রিয়তা বাড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষকরা।