শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ হটনিউজ স্পেশাল

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা সদরপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অতিরিক্ত ফি আরোপ

সদরপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির যোগসাজসে ভর্তিসহ বিভিন্ন ফি আরোপ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

করোনাকালীন সময়ে সরকার যেখানে সাতটি খাতে কোন প্রকার ফি নিতে নিষেধজ্ঞা করেছেন, উক্ত ফি নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ফি নির্ধারণ নিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যদি কোনো অভিভাবক আর্থিক সংকটে পড়ে তা হলে তার সন্তানের টিউশন ফি এর বিষয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নিবেন। কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন যেন কোন কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।

পাশাপাশি বলা হয়, ২০২১ সালের শুরুতে যদি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পূনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন ফি এর নামে অর্থ নিতে পারবে না ।

সদরপুর উপজেলায় ২৪টি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে সরকারি ২টি, বেসরকারি মাধ্যমিক ১৯টি, নিম্ন মাধ্যমিক ১টি ও এমপিও বিহীন ২টি ।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, তার ছেলের ভর্তি ফি বাবদ ১ হাজার ১শত ৫০টাকা।

বাইশ রশি শিব সুন্দরী একাডেমীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি মানবিক বিভাগে ৯ম শ্রেণীতে অ্যাসাইনমেন্ট জমা বাবদ ১ হাজার ৯শত ৬০ টাকা এবং দশম শ্রেণীতে নতুন ভর্তি বাবদ ১ হাজার ৫০ টাকা নিয়েছে।

এ ছাড়া ও উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন শ্রেণীতে নতুন ভর্তি বাবদ অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে, সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালালউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত ১৮ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (মাউশি) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুধু টিউশন ফি গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোন ফি গ্রহণ করতে পারবে না। এছাড়াও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। তবে কেউ যদি অতিরিক্ত ফি নিয়ে থাকে তা হলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।