জাতীয় সারাদেশ

ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করবে ছিটমহলবাসী

india20130828215709 ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, ২৯ আগস্ট :  ছিটমহল বিনিময়ের দাবিতে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন ছিটমহলবাসী। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বুধবার এক বৈঠকে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ছিটমহল বিনিময় যে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন, মামলার মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে চায় সংগঠনটি।
বৈঠক সূত্র জানায়, ভারতের সংবিধানের তিনটি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটাধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক অধিকার দেওয়ার আবেদন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে দুটি পক্ষ করে মামলা করা হবে।
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বলেছে, তথ্য জানার আইন অনুসারে তারা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ছিটমহল-সংক্রান্ত বিস্তারিত কিছু তথ্য চেয়েছিল। সেসব তথ্য হাতে পাওয়ার পর তারা গতকাল জরুরি বৈঠকে বসে।
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, ভারতের সংবিধানের তিনটি অনুচ্ছেদকে তাঁরা উল্লেখ করতে চান। অনুচ্ছেদগুলো অনুযায়ী ছিটমহলগুলো ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ছিটমহলবাসীর জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা সরকারকেই করতে হবে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সব নাগরিকের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার দিতে হবে।
কিন্তু উল্লিখিত তিনটি বিষয়ই ছিটমহলের ক্ষেত্রে সরকার অচল করে রেখেছে। তাঁর মতে, সরকার এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করছে।
কমিটির কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে দীপ্তিমান সেনগুপ্ত আরও বলেন, প্রতিটি ছিটমহলই নির্দিষ্ট কোনো থানার অন্তর্গত। নথিতে সুস্পষ্টভাবে সংখ্যা দিয়ে এগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, ভারত সরকার একদিকে নিজেই বলছে, এগুলো তাদের জায়গা। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনোভাবেই ওই জায়গায় যেতে পারছে না।
সম্প্রতি ছিটমহল নিয়ে সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, ভারত সরকার বরাবরই বলছে, ছিটমহল বিনিময় একটি রাজনৈতিক বিষয়। আসলে এটি সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু এটি আড়াল করতেই দীর্ঘ ছয় দশক ধরে নাটক করা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটে মন্তব্য করেন, ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়ে তাঁর সরকারকে জানানো হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পর তাঁর দলের নেতারা ছিটমহল বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করতে দেননি। কিন্তু জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রটোকল চুক্তি করেছিলেন। সম্প্রতি ওই অনুমতিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশিতও হয়েছে। বিবিসি।