অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

পাট কাটা-বাছাইয়ের ধুম

Jute-L20130829001407ফরিদপুর থেকে ফিরে, ২৯ আগস্ট:  ফরিদপুরের সর্বত্র পাট কাটা এবং বাছাইয়ের ধুম পড়েছে।

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার বেশি পাটের আবাদ হয়েছে এ জেলায়। আশা করা হচ্ছে, এবার অনেক বেশি পাট উৎপাদন হবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয়-এরকম জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে ফরিদপুর।
সরেজমিনে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, সর্বত্রই চলছে পাট বাছাই। অর্থাৎ পাট জাগ দিয়ে (পঁচিয়ে) তা থেকে আঁশ ছাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। আলাদা করা হচ্ছে পাটখড়ি। চাষি পরিবারের প্রায় সবাই এ নিয়ে মহাব্যস্ত। ছেলে-মেয়ে বয়োবৃদ্ধ নির্বিশেষে পাট বাছছেন সবাই।

উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাদ্রের তালপাকা গরমে ঘর্মাক্ত শরীরে পাট শুকাচ্ছেন অনেকেই। শুকানো হচ্ছে পাটের খড়িও। এলাকার সর্বত্র ভেসে বেড়াচ্ছে পাটের সুবাস। অবশ্য কৃষক ছাড়া অন্যদের কাছে তা দুর্গন্ধও মনে হতে পারে।

উজানদিয়া গ্রামের উত্তর পাশের বিলে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য কৃষক পাট বাছাইয়ে ব্যস্ত। এখানকার বিলে পাট জাগ দেয়ার মতো প্রয়োজনীয় পানি থাকায় পাটের আবাদও হয় বেশি। আবার পাটের মৌসুমে পুরো এলাকা পাটময় হয়ে যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষ- সবাই ব্যস্ত থাকেন পাট কাটা, বাছাই ও সেসব শুকানো নিয়ে।
এ গ্রামের শিমুল শাহ ও কামাল হোসেন জানালেন, পাটের মৌসুমে এখানকার রাস্তাঘাটে চলাচলও মুশকিল হয়ে যায়। পাট এবং পাটখড়িতে পাকা রাস্তাগুলোতে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

কলুইকান্দি এবং কোড়কদি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এখানে কেবল পাট কাটা শুরু হয়েছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু গ্রামগুলোতে পাট কাটা হয় দেরিতে। তারা পাট পঁচাতে পানির জন্য অপেক্ষা করেন।
মধুমতি নদী সংলগ্ন খালগুলোর প্রবাহ ইতিমধ্যে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে পাটের জাগে। খালগুলোতে দেখা গেলো হাজার হাজার পাটের জাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, এবার ফরিদপুরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭৩ হাজার ৬১০ হেক্টর জমি। ওই পরিমান জমি থেকে ৮ লাখ দুই হাজার ১শ’২২ বেল পাট পাওয়ার কথা। অবশ্য চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছু বেশি অর্থাৎ ৭৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর জমিতে।

ফরিদপুরের সাংবাদিক টিটু জানালেন, চলতি সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন হাটে মান ভেদে ১১শ’ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে মিলছে মণপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি।
যদিও মৌসুমের শুরুর দিকে ভালো পাটের মণ ছিলো ১ হাজার ৮শ’৮০ টাকার মতো। ১৫ দিনের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম কমেছে প্রায় ৩০০ টাকা।

পাটের দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা। তাদের অভিযোগ সরকারি ক্রয়কেন্দ্র সব হাটে নেই। থাকলেও সবার পাট নেয়া হয় না। এমনকি পাটকলগুলোও এখনো পাট কিনছে না। এই সুযোগে ফড়িয়ারা কম দামে পাট কিনে মজুদ করছেন।

কামারখালি হাটে রুবেল নামে একজন ফড়িয়া জানান, দু পয়সা লাভের জন্যই তারা এখন পাট কিনছেন। বিপুল পরিমাণ টাকা এ খাতে লগ্নি করা হচ্ছে বিশাল ঝুঁকি নিয়ে। কারণ পাটের দাম না বাড়লে তাদের লোকসান গুণতে হবে। তাছাড়া গুদাম ভাড়া, আগুন-পানির ঝুঁকি এসবতো আছেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাট গবেষক রাইজিংবিডিকে বলেন, পাট নিয়ে আসলে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা নেই। ভারতে যেখানে একের পর এক নতুন পাটকল হচ্ছে; সেখানে বাংলাদেশের পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সোনালী আঁশ আবার স্বরূপে ফিরে আসতে পারে। কারণ কৃত্রিম তন্তু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাপী পাট এবং পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এক্ষেত্রে আশা যোগাচ্ছে পাটের জ্বিন আবিষ্কার। বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা এই আবিষ্কারের ফলে পাট তার হারানো গৌরবকেও ছাড়িয়ে যাবে।