জাতীয়

গড়াই নদী খননের ৪৭৫ কোটি টাকা জলে !

gorai-nodi20130828065847হটনিউজ২৪বিডি.কম, ২৮ আগস্ট: কুষ্টিয়ায় ৪৭৫ কোটি খরচ করে গড়াই নদী ড্রেজিং করা হলেও এর সুফল মিলছে না।

ড্রেজিং করে অপরিকল্পিতভাবে নদী তীরেই উত্তোলনকৃত বালু ফেলায় ভেস্তে যেতে বসেছে খনন কাজ। এসব বালু বৃষ্টিতে ধুয়ে ও প্রবল স্রোতে ফের নদীতে গিয়ে পড়ছে। যার ফলে শুষ্ক মৌসুমে বালুর নতুন স্তূপ জমে নদীতে ফের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় গড়াই নদী খনন নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক খনন পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৪২০ কোটি টাকা ব্যায়ে গড়াই নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কাজ শুরু হয়। তবে সে সময় যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী খনন কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যস্ত ভেস্তে যায়।
৯৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প এর কাজ পায় চীনের চায়না হারবার নামে একটি কোম্পানি। ২০১১ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম খনন কাজ শুরু করা হয়। গড়াই নদীর উৎস মুখ তালবাড়িয়া থেকে শুরু করে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পর্যন্ত মোট ৩০ কি. মি. নদীপথ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়।

২০১০ সাল থেকে গড়াই খনন প্রকল্পে দুটি ড্রেজার কেনাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে তিন বছরে ব্যয় করেছে ৪৭৫ কোটি টাকা। খননের পর বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে গড়াই উৎস মুখ তালবাড়িয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ৮টি পয়েন্টে বালি জমে পানি প্রবাহে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদ।

জেলা প্রশাসকরে সম্মেলন কক্ষে মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেন তারা।

অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন খনন কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করেন। জেলা প্রশাসক চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি চিঠি দেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন,‘গড়াই নদী খনন করে বালি ও মাটি নদী পাড়েই ফেলা হচ্ছে। ড্রেজিং করার পর উত্তোলনকৃত বালু নদী তীরেই ফেলা হচ্ছে। প্রথম দুই বছর ড্রেজিং করার পর উত্তোলনকৃত বালুর বড় একটি অংশ ফের নদীতে চলে যায়।
এ বছর অবস্থা আরও ভয়াবহ। উত্তোলনকৃত বালুর বড় একটি অংশ নদীতে চলে গেছে। এতে করে নদীতে চর পড়ে ফের আগের অবস্থায় চলে যেতে পারে বরে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।’

গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদের সাথে কথা হলে বলেন, নদীর পানি এবার অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে কয়েকটি পয়েন্ট থেকে খনন করা বালি ও মাটি স্রোতের তোড়ে নদীতে পড়ছে।