কৃষি ঢাকা

বাকৃবি’র কৃষি জাদুঘর

mujuam-0120130827124919 ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, ২৭ আগস্ট: সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে কৃষি পদ্ধতি ও উপকরণের আধুনিকায়ন এবং উদ্ভাবনে পাল্টে গেছে কৃষির ঐতিহ্য ও কৃষ্টি। আর কৃষি সভ্যতার সূচনা ও বিবর্তনের এই ইতিহাস, কালের ধারায় ঐতিহ্যমন্ডিত বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও প্রযুক্তিসমূহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) তে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক জাদুঘর। জানা গেছে, ২০০২ সালের ১০ মার্চ দেশের প্রথম এই কৃষিভিত্তিক জাদুঘরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। পরে ২০০৭ সালের ৩০ জুন বাকৃবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসাইন মিঞার উদ্বোধনে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ৬৩৫০ বর্গফুট আয়তনের আট বাহু বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের প্রথম ধাপে একতলার নির্মাণ কাজের জন্য মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা।

২০০৭ সালে চালু হওয়া এই জাদুঘরে এখনো চলছে কৃষি সম্পর্কিত ঐতিহ্যের সংরক্ষণ কাজ। সীমিত পরিসরে হলেও জাদুঘরটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান গ্রাম বাংলার কৃষিজ সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত কৃষি কাজের নিদর্শন, বিশেষ করে- বাঁশ ও বেতের তৈরি টুকরি, ওচা, মাথলা, বাঁশের তৈরি বাঁকসহ ঝুড়ি, বাঁশের তৈরি টুরং, কুরুম, তেরা, খালই, গরুর ঠোয়া, বিভিন্ন ধরনের হুক্কা, বাঁশের তৈরি চালুন, কুলা, ডুলি, লাঙ্গল, জোয়াল, মই, কোদাল, দা, নিড়ানী, কাস্তে, কাঠের তৈরি ঢেঁকি, পলো, চেং, বাইর, উড়ি, সানকি, বিজয়পুরের চীনা মাটি, এঁটেল মাটি, দুআঁশ মাটিসহ বিভিন্ন ধরনের মাটি, জীবাণু সারসহ বিভিন্ন ধরনের সার, বাকৃবি, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান, পাট, ডাল, ছোলা, সরিষা, টমেটো, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য বীজ, বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ, অপরাপর অনুষদ ভিত্তিক বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, সয়েল টেস্টিং কিট, ইনসেক্ট কালেক্টিং বক্স, বিবর্তনের ধারায় যান্ত্রিক কৃষি কাজের মডেল, পাহাড়ি চাষাবাদ পদ্ধতিসহ কৃষি কাজের বিভিন্ন মডেল।

রয়েছে অজগর সাপ, জাতিসাপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর কঙ্কাল, মাটির তৈরি বাঘসহ গ্রাম বাংলার কৃষকদের ব্যবহৃত এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন কৃষি উপকরণ।