ঢাকা রাজনীতি

বিএনপি’র সভাপতিসহ ১৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

download (5)শেরপুর থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ শাকির:শেরপুর জেরা বিএনপির সরকারী দল সমর্থক কতিপয় নেতা ষড়যন্ত্রের কারণে শেরপুরে ২৭ আগষ্টের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর স্থগিত করেছে বলে জেলা বিএনপির সাধারণ সমপাদক মাহমুদুল হক রুবেল জানান। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হব মিলনের আগমন উপলক্ষে জেলা বিএনপির মধ্যে মতবেধ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি পরিবেশ তৈরী হয়েছিল। এজন্য জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক রুবেল সকল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে সবাই সামনের আন্দোলন করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ অবস্থায় শেরপুরে পুলিশ ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনায় শেরপুর জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সহ-সভাপতিসহ ১৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করায় এসব ঐক্য প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে। অভিযোগ রয়েছে এ সাংগঠনিক সফর ও বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়া বাঞ্চাল করতেই বিএনপির মধ্যে সরকারী দলের সমর্থক কতিপয় নেতার যোগসাজশে এ সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৫ আগষ্ট রোববার জামালপুর জেলার বক্সীগঞ্জ উপজেলার চককারীয়া সীমার পাড়া গ্রামের মোটর গাড়ীর হেলপার মোঃ লুৎফর রহমান বাদী হয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সেলিম মিয়ার আদালতে অভিযোগ দাখিল করে। সোমবার ২৬ আগষ্ট আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহন করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পরবর্তী কার্যক্রমের নির্দেশ দেয়।

মামলার অভিযুক্ত আসামীরা হল, শেরপুর জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আশীষ, শেরপুর সদর আসন থেকে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশি শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, জেলা ািবএনপির সহ-সভাপতি মোঃ হাতেম আলী, আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক এসএম শহিদুল ইসলাম, সদর থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী, সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্রামুজ্জামান রাহাত, আনিসুর রহমান আনিস, দেলোয়ার হোসেন ক্রিসেন্ট, এনামূল হক বীপু, সেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউল করিম রুমি, আমিনুল ইসলাম আমীন, আব্দুস সাত্তার, শফিকুল ইসলাম শান্ত, মোঃ মাসুদ, বাবুল চৌধুরী ও মিল্টন চৌধুরী। এছাড়া আরো ২০ থেকে ২৫ জনের অজ্ঞাতনামা আসামীর উল্লেখ করা হয় ওই মামলায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ আগষ্ট রাতে ‘তুরাগ’ নামে ঢাকা-শেরপুর সড়কের একটি বাস সার্ভিস শহরের বন বিভাগ কার্যালয়ের সামনে আসলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গাড়ীটি ভাংচুর করে। পরে এ ঘটনায় গাড়ীর ওই হেলপার বাদী শেরপুর সদর থানায় মামলা করতে গেলে থানায় এজাহার না নেয়ায় ২৫ আগষ্ট শেরপুরের চীফ জুডিশীয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এ মামলার ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আশীষ জানান, ইতিমধ্যে ১৬ আগষ্ট রাতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি’র প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। ওই দিন ওই খানে কোন গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি’র বহিস্কৃত নেতা এবং জেলা বাস-কোচ মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপন স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের সাথে যোগসাজসে এবং মঙ্গলবার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলনের শেরপুর সফরকে কেন্দ্র করে যে সভার আয়োজন করা হয়েছে তা বানচালের জন্য এ মিথ্যে ও হয়রানী মুলক মামলা দায়ের করিয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাময়িক বহিস্কৃত জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন জানান, আমি যেহেতু বিএনপি’র নেতা সেহেতু বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রশ্নই আসে না। তবে গত ১৬ আগষ্ট রাতে আমাদের মালিক সমিতি’র এক সদস্যের একটি বাস ভাংচুর হলে সমিতি’র সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই বাসের চালক অজ্ঞাত কতিপয় ব্যক্তির উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডাইরি করেছিল। থানায় বা আদালতে মামলা দায়ের কারার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।