খুলনা জাতীয়

কুষ্টিয়ার ৩৫টি গ্রাম এখন পানির নিচে

কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া:  উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম এখন পানির নিচে। তলিয়ে গেছে প্রায় ১৫’শ হেক্টর জমির ফসল। দীর্ঘদিন ধরে পানি বন্দি থাকায় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।

সরেজমিনে বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মা নদীতে উজানের নেমে আসা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের মধ্যে ৩৫টি গ্রামই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ১৫’শ হেক্টর জমির উঠতি আউশ ধান ও পাটসহ অন্যান্য ফসল। জলমগ্ন হয়েছে চিলমারী, চরচিলমারী, রামকৃষ্ণপুরসহ ৪টি বিজিবি ক্যাম্প ও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যা কবলিত ভুক্তভোগীরা জানান, এ দুই ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ দেড় থেকে দুই মাস ধরে পানি বন্দি অবস্থায় আছেন। দীর্ঘ দিন ধরে কাজ-কর্ম না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় পানিবাহিত রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি নিয়েও মহাবিপাকে পড়েছে ওইসব দুর্গত এলাকার মানুষ। এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারীভাবে এ পর্যন্ত মাত্র ৫৩ মেট্রিক টন চাল বিতরন করা হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় এটা একেবারেই অপ্রতুল। ফলে অনেকেই এখনো পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী পাননি। ঠোটারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, সরকার মাত্র ১০ কেজি চাল দিয়েছে, এতে কি হয়। সে চাল তো কবেই শেষ হয়ে গেছে। এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব, কি খাব? রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আল্লেক মন্ডল বলেন, পানির মধ্যে থাকতে থাকতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। তার বউ ৫ দিন ধরে জরে ভুগছেন, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক জানান, বানভাসিদের মত তিনিও অসহায়। পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ না হওয়ায় তিনি বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না। তিনি বাসভাসিদের সাহায্যে সরকারের পাশাপশি বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন সরোজমিনে বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বানভাসিদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ দেয়া হবে।