অপরাধ খুলনা সারাদেশ

কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের যন্ত্রাংশসহ সম্পত্তি লুটপাট

KUSHTIA-2কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলের শেষ ধ্বংসাবশেষটুকু লুটপাটের মিশন শুরু করেছে জেলা আওয়ামীলীগের কয়েক নেতা। এদের দুজন পঞ্চপান্ডব খ্যাত ফাইভ ষ্টার গ্র“পের সাবেক সদস্য। একজন আওয়ামী লীগ নেতা তাইজাল আলী ও অপরজন হাজী রবিউল ইসলাম। মোহিনী মিল রক্ষা কমিটির আহবায়ক ও কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেছেন লুটেরা হাত থেকে মোহিনী মিলকে শেষ রক্ষা করতে হবে। ১৯০৮ সনে ৯৯ বিঘা সম্পত্তির উপর গড়ে উঠা দেশের সর্ববৃহৎ সূতা ও বস্ত্রকল মোহিনী মিল এতদঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। স্থানীয় কিছু স্বার্থানেষী লুটেরাদের নানামুখি ষড়যন্ত্রে লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি দিনে দিনে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। অবশেষে ৫/২/৮২ তারিখে তৎকালিন সরকার ঐতিহ্যবাহী এই মিলটি বন্ধ ঘোষনা করে ফলে মিলের কর্মরত প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জনৈক নজরুল ইসলাম নামে একজন মিলটি চালু করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে লিজ নিয়ে স্থানীয় চিহ্নিত লুটেরা তাইজাল,আমিরুল, রবিউল, নাসির মৃধার যোগসাজসে এই প্রতিষ্ঠানটির সকল যন্ত্রপাতি মেরামতের নামে ঢাকায় বিক্রি করে এবং মিলের বিপরীতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোন নিয়ে বিপুল পরিমান অংকের বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর এবং ৯ মাসের শ্রমিকের বেতন বাঁকী রেখে ১৯৮৭ সালে মিলটি প্রায় ধবংশ করে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। পুনরায় আবার ১৭/১২/০৯ ইং তারিখে নতুন ভঙ্গিতে ঐ লুটেরাগোষ্টি মিলচালুর নামে মিলটির দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ঐ লুটেরা কুচক্রি মহল বিল হস্তান্তরের পরই মিলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, তাঁত, স্পিনিং, তামা ও পিতলের পাত ইত্যাদি এমন কি মিলের জমি স্থাপনা, শ্রমিক কলোণী এবং খেলার মাঠের বিশাল জমি বিক্রির জন্য পায়তারা শুরু করে। এমনিতেই মিলটির ধবংশকারী লুটেরাদের হাতে পুনরায় মিলটির দায়িত্বভার যাওয়ায় কুষ্টিয়ার আপামর জনতা আতংকিত হয়ে পড়ে । কুষ্টিয়ার মানুষের আশংকা বাস্তবে পরিণত হয় বিগত ১৭/৭/১০ তারিখে যখন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় দূনীতিবাজ কর্মকর্তার সহায়তায় লুটেরাগোষ্টি ট্রাক যোগে মোহিনী মিলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি করে পাচার করার সময় মিলের প্রাক্তন শ্রমিকরা প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। লুটেরাগোষ্টি পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বেদম মারপিট করে বহু মানুষকে রক্তাক্ত জখম করে এমনকি পুলিশি ঐ বরর্বতা থেকে সাংবাদিকরাও রেহায় পায় নাই। অবশেষে জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে লুটেরা বাহিনী ট্রাকভর্ত্তি চোরাই মালামাল ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নতুন করে আরারও চিহ্নিত ঐ লুটেরাগোষ্টি সারা শহরের সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে মিলের যন্ত্রাংশ মেশিনপত্র ভেঙ্গে বিক্রি করে মিলের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মহড়া চলছে এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোন মুর্হুতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে।