জাতীয় ঢাকা সাহিত্য

জাতীয় কবির ৩৭তম প্রয়াণ দিবস

Kazi Nazrul Islam_3আছাদুজ্জামান, ঢাকা, ২৭ আগস্ট : কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। বিশ শতকে উপমহাদেশ কাঁপানো বাঙালির প্রিয় কবি।

আমাদের মনের কোণে ঝংকার তোলে আজও যার কথা ও কবিতা। আজ আমাদের সেই প্রিয় কবির ৩৭তম প্রয়াণ দিবস।
জন্ম ১৩০৬, মৃত্যু ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল ৭৭ বছরের। সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। ২৩ বছরের সাহিত্য জীবনে তাঁর বিপুল সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর ছড়ানো দ্রোহী চেতনা কাঁপিয়ে দেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত।
খ্যাতি পেয়েছেন বিদ্রোহী কবির। অভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায়।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণ থেকে উপমহাদেশের মুক্তির আন্দোলন এবং একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। সংকট ও সম্ভাবনায় নজরুলের সৃষ্টিকর্ম বাঙালির জীবনে জুগিয়ে চলেছে নিরন্তর প্রেরণা।
বাঙালির এই প্রিয় কবি দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
বাংলাদেশে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে বঙ্গাব্দ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ।
কাজী নজরুল ইসলামের কর্মময় জীবন যেমন ঘটনাবহুল, তেমনই বিচিত্র তাঁর সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি। নজরুল জন্ম নিয়েছিলেন ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ ব্রিটিশ-ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে। দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে কবির পৃথিবীতে আগমন। বেশি দূর এগোয়নি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।
নজরুল নিজের চেষ্টায় প্রচুর পড়াশোনা আর জীবনাভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করেছেন চিন্তার জগৎ।
ছোটবেলায় রুটির দোকানে কাজ করা, লেটোর দলে যোগদান, যৌবনে যুদ্ধযাত্রা, সাংবাদিকতা, রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা সব মিলিয়ে এক বিচিত্র জীবন তাঁর। অসাম্য, অসুন্দর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অক্লান্ত বিদ্রোহী।
বিদ্রোহী কবির মর্যাদা পেলেও তিনি চিরকালের প্রেমের কবি। সব ধর্মের মানুষের কাছে তিনি পেয়েছেন সমান মর্যাদা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে তিনি লিখে গেছেন অবিরাম। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে তাঁর অজর কবিতা। বাংলা গানের জগৎকে গীতসুধারসে ভরিয়ে দিয়েছে তাঁর বৈচিত্র্যময় গানের কলি, তাতে যোগ করেছে নতুন নতুন মাত্রা ও স্বাদ।
জন্মস্থান ভারতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে কবি নিবিড় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরের একটা সময় কেটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল-দরিরামপুরে। কুমিল্লায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেটেছে তাঁর আনন্দ-বেদনার অনেক দিন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভারত থেকে নিয়ে আসেন বাংলাদেশে। এর পর থেকে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত।