জাতীয় ঢাকা

মাদক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী চান এরশাদ

ershad-sm20130826055616নিউজ ডেস্ক,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: মাদক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ দায়িত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহবান ‍জানান।দেশে ক্রমবর্ধমান মাদকের ভয়াবহতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের ভয়াবহ ব্যবহার ও বিস্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। দেশের যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে নির্মূল করার লক্ষে অবিলম্বে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদকের ব্যবহার আজ আমাদের সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে দেশে মাদকের ব্যবহার দেশের রাজনৈতিক সংকটের চেয়েও ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। অথচ আমরা রাজনীতিবিদরা, যারা দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছি তারা কেউই এ সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছি না।বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, যদি সমাজ ধংস হয়ে যায়, যুব সমাজ ধংস হয়ে যায়, সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের সারাক্ষণ উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে দেশের রাজনীতি কাদের জন্য? শুধু দেশের একজন প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি হিসেবেই নয়, একজন সচেতন নাগরিক ও একজন অভিভাবক হিসেবেও আজ আমি মাদকের সর্বনাশা ছোবলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত ও আতংকিত। তাই যে কোনো মূল্যে আমাদের দেশের মানুষকে এই মাদকের সর্বনাশা ছোবলের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- বিভিন্ন মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, দেশে মাদক ব্যবসায় রাজনীতিতে জড়িত কিছু ব্যক্তি এবং প্রশাসনের কিছু লোকজনও জড়িত। এ অবস্থায় স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, তাহলে এই ভয়াবহ সমস্যার সমাধান কিভাবে সম্ভব? আমার দীর্ঘ নয় বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতায় আমি মনে করি- আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করতে হলে অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেনাবাহিনী ছাড়া আর কারও পক্ষে দেশকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমি দেশে মাদকের ব্যবহার বন্ধ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিরতরে নির্মূল করতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। একমাত্র সেনাবাহিনীর পক্ষেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করা সম্ভব।

এরশাদ বলেন, দেশের এ ধরনের সামাজিক সমস্যা ও সংকট মোকাবেলায় আমাদের সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ইতোপূর্বে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, টর্নোডোসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দক্ষতার সিঙ্গে মোবাবেলায় আমাদের সেনাবাহিনী দেশবাসীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদকদ্রব্যের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নজির রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডেও এক সময় ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছিলো। সেখানে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে থাই সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলো এবং সেনাবাহিনী কঠোর অ্যাকশনের মাধ্যমে তিন হাজার ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীকে নির্মূল করার পর থাইল্যান্ড এখন ইয়াবামুক্ত।

এরশাদ বলেন, আমি মনে করি আমাদের প্রিয় দেশকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আর সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাদক নির্মূলের দায়িত্ব দেওয়া হলে একদিকে যেমন সেনাবাহিনী মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংশের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে, তেমনি শংকামুক্ত হতে পারবেন অভিভাবকরাও।