জাতীয় ঢাকা

যানজট নিরসনে ব্যর্থ ওয়াটারবাস

Water-bus-20130826082941স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: রাজধানীতে ক্রমেই বড়ে চলেছে যানজট। যানজট নিরসনের জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও যানজট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীর যানজট নিরসনে সদরঘাট-গাবতলী নৌ-রুটে ওয়াটারবাস চালু সরকারের নেওয়া অন্যতম উদ্যোগ।

ক্ষমতাসীন সরকারের নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের নেওয়া এই উদ্যোগ ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

প্রতিদিন লোকসান দিয়ে চালাতে হচ্ছে ওয়াটারবাসগুলো। প্রতি ঘণ্টা পর পর এই বাস চলার মতো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে কম যাত্রী নিয়েই চলতে গিয়ে তেলের খরচও উঠে আসছে না এ পরিবহন সার্ভিস থেকে। এরপর রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সালের ৮ আগস্ট ব্যাপক ঘটা করে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এমএল তুরাগ ও এমএল বুড়িগঙ্গা নামে ২টি ওয়াটারবাস চালু করে। প্রতিটি ওয়াটারবাসের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৩৫ জন যাত্রী। স্বল্প ধারণ ক্ষমতার ওয়াটারবাসে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় দু’বার বন্ধ হয়ে যায় পরিবহনটি।

ওয়াটারবাস দিয়ে যানজট নিরসন না হলেও তৃতীয়বারের মতো পুনরায় সরকার ৩ কোটি টাকা ব্যয় করে ৪টি নতুন ওয়াটারবাস নতুন করে বহরে যুক্ত করে। এ ওয়াটারবাসগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৮১ জন যাত্রী।

বুড়িগঙ্গা থেকে গাবতলীগামী হনুফা বেগম হটনিউজকে জানান, সময় বাঁচানোর জন্য ওয়াটারবাসে উঠলাম। কিন্ত সময় মতো যাত্রী না হওয়ায় যানজটের চেয়ে বেশি সময় লেগে গেল।

চুন্নু নামে আরেক যাত্রী হটনিউজকে জানান, সময় কাটানোর জন্য ওয়াটারবাস ভালো। তবে সময় বাঁচানোর জন্য নয়। কারণ এই বাস কখন ছাড়ে তার কোনো নিয়ম নেই। মাত্র ৬টি ওয়াটার বাস দিয়ে রাজধানীর বৃহত্তর চাহিদা মেটানো অসম্ভব। সুতরাং সার্ভিস চালু করলে ভালো করে করা ভালো, না হলে বন্ধ রাখা ভালো। এভাবে মানুষের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা ঠিক না।

যাত্রীদের অভিযোগ, এ সার্ভিস চালু করে রাজধানীর যানজট নিরসনে কোনো উপকার হয়নি। যানজটের শিকার যাত্রীরা তেমন কোনো সুবিধাও পাননি এ বাস দিয়ে। বরং প্রতিদিন যানজটে আটকে পড়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিআইডব্লিউটিসি’র সদরঘাটের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খালেদ নেওয়াজ হটনিউজকে জানান, বাসগুলোর সকল আসন পূরণ হওয়ার পরও তেলের টাকা ওঠে না। এদিকে সারাদিন তেমন যাত্রীও থাকে না। সকালের দিকে গাবতলী ও বাদামতলী থেকে কিছুটা যাত্রীর চাপ থাকে।