অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা

লোকসান গুণেই চলছে ১৯ পাটকল

Jute20130826091750হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা, ২৬ আগস্ট: ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লোকসান গুণেই চলেছে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)। ফলে বছরের পর বছর সরকারকে লোকসানের মাশুল দিতে হচ্ছে।
কর্পোরেশন পরিচালিত ২৩ পাটকলের মধ্যে নিয়মিত লোকসান গুণছে ১৯ পাটকল।
কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ী দেখা যায়, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ১৯ পাটকলে ৩০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। অন্য চার পাটকল সামান্য লাভ করে টিকে আছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে পাট পণ্যের ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণেই এ খাত থেকে লাভের মুখ দেখতে পারছে না সরকার।
একই সঙ্গে পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষীরা পাট চাষে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। করুণ দশায় সোনালি আঁশখ্যাত এ শিল্পের।
জানা যায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ৮৪ টি পাটকল নিয়ে বিজেএমসি যাত্রা শুরু করে। সময়ের আবর্তে লোকসান গুনতে গুনতে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে এরই মধ্যে ৬১টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে।
বিজেএমসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ভারত কেন্দ্রিক হওয়ায় একাধিক বাজার হারাতে হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারি পাটকলগুলোর উৎপাদিত পাট পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে ভারত।
তারাই মূলত বিজেএমসিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের পাটপণ্যের বাজার হারাতে হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন বাজার সৃষ্টিরও কোন উদ্যোগ নেই বিজেএমসির। এ কারণেই মিলগুলোর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে তারা জানান।
লাভজনক জুট মিলগুলোর মধ্যে রয়েছে লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস, জাতীয় সাবেক কওমী জুট মিলস, খালিশপুর সাবেক পিপলস জুট মিলস, ও বাংলাদেশ জুট মিলস।
শ্রমিকদের আন্তরিকতায় একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠান যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে তার প্রকৃত উদাহরণ সৃষ্টি করেছে লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। বিজেএমসির আওতায় পরিচালিত এ মিলটি দীর্ঘ ৩০ বছর পর আস্তে আস্তে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে।
ঢাকার অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীর পারে অবস্থিত লতিফ বাওয়ানী জুট মিলটি ঘুরে দেখা যায়, বেশ চাঙ্গাভাব এ পাটকলটিতে। নদী দিয়ে নৌকা বোঝাই করে এবং সড়ক পথে ট্রাক বোঝাই করে আসছে কাঁচা পাট। অন্যদিকে সেগুলো ধাপে ধাপে নানা প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে তৈরি হচ্ছে হেসিয়ান অর্থাৎ বিভিন্ন শস্যবীজ, চিনিসহ সমজাতীয় পণ্য রাখার জন্য বিশেষ ব্যাগ, সেকিং অর্থাৎ ধান, চালসহ বিভিন্ন পণ্য রাখার বস্তা, সিবিসি অর্থাৎ কার্পেট বেকিং ক্লথ, এবিসি অর্থাৎ সয়েল সেভার এবং পিএলপি অর্থাৎ প্রিমিয়াম লেমিনেশন পণ্য।
জানা যায়, সরকারি মালিকানাধীন পাটকলগুলোতে বিগত ২০১১-১২ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা। কিন্ত আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা তো রাখছেই না, বরং অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানই এখন রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে লোকসানের মাত্রা কমতে শুরু করেছে দাবি করেছেন বিজেএমসির পরিচালক আবু সাঈদ।
তিনি বলেন, “ কলগুলোতে দুর্নীতি থাকায় এ দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে উপযুক্ত বিচার করা হবে।”