ঢাকা মিডিয়া হটনিউজ স্পেশাল

সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মানবকন্ঠ কর্তৃপক্ষের ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণের ডিইউজের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর, ২০২০) মানবকন্ঠ দপ্তরের সামনে তাদের কর্মচ্যুত সাংবাদিকদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালনকালে পত্রিকার মালিক নজরুল ইসলাম ভুইয়া ও তার পেটোয়া বাহিনী ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ডিইউজের নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে যে ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণ করেছে ডিইউজে নির্বাহী পরিষদ তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার ডিইউজে এক বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জানাতে চায়, ইউনিয়নকে অবজ্ঞা করে অতীতে কোন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান বেশি দূর এগুতে পারেনি। ভবিষ্যতেও তার ব্যতিক্রম হবে না। বুধবারের ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ডিইউজের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাজারখানেক পত্রিকা প্রকাশ করে এই কাগজটি সরকার ঘোষিত নানা ধরনের সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিউজপ্রিন্ট আমাদানীর নামে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র সংগ্রহ করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার সুবিধা গ্রহণ করছে।
বিজ্ঞাপণ সরকারি রেট বাড়িয়েছে কারচুপির মাধ্যমে। নানা অজুহাতে বছরের পর বছর সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রাখার পর বেতন চাইতে গেলে তাদের ওপর গুন্ডা লেলিয়ে বিদায় করেছে।

ডিইউজের বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়, অন্যথায় প্রাপ্য বেতন আদায়ের কর্মসূচীতে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য মানবকন্ঠ কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবে।

বিবৃতিতে গত বুধবারের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে ডিইউজে নির্বাহী পরিষদ জানায়, করোনাকালে দৈনিক মানবকণ্ঠ থেকে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের বকেয়া আদায়ের মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালীন (গত ২৮ অক্টোবর, ২০২০) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, বিএফইউজে’র কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদকে পত্রিকার মালিকের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেন সম্পাদক দুলাল আহমেদ চৌধুরী। আলোচনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ সমাধানের আশ্বাসও প্রদান করেন তিনি।

দুলাল আহমেদ চৌধুরী জানান, ‌’মালিকের সঙ্গে তার প্রাক আলোচনা হয়েছে। তিনি একটি প্যাকেজ প্রস্তাব দিতে চাচ্ছেন, নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসলে সহজেই সব কিছু মিটমাট হবে।’

ডিইউজের নেতারা উপস্থিত কর্মচ্যুত সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে, কর্মসূচি চালু রেখে আলোচনায় যোগ দেন। আলোচনার শুরুতে মানবকন্ঠের কর্মচ্যুত সাংবাদিকদের করুণ অবস্থা ও তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবির স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরার প্রারম্ভেই মানবকণ্ঠের মালিক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া ঔদ্ব্যতপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তার এলাকায় কেন সমাবেশ করছি? তিনি সাংবাদিক নেতাদের হাইকোর্টে দাঁড় করানোর হুমকি দেন। বলেন, মানববন্ধন বন্ধ না করলে সবাইকে দেখে নেওয়া হবে।’ সাংবাদিক নেতারা তার হুমকির কড়া জবাব দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও মানবন্ধন-সমাবেশে যোগ দেন।

ডিউজের নেতৃবৃন্দ মানবকন্ঠ কর্তৃপক্ষের এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ও অশোভন আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের নিপীড়ক দালাল সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে।