জাতীয় রাজশাহী

বগুড়ায় তৎপর জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরা

Bogra-sm20130825175902ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,বগুড়া: ২২ আগস্ট বিকেলে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া ইয়াছিন নগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ উগ্র মতাদর্শভিত্তিক বইসহ জঙ্গি সন্দেহে ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

২৪ আগস্ট আবারও শহরের মালগ্রাম এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র এবং বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সন্ধান মেলে বিপুল পরিমাণ উগ্রমতাদর্শভিত্তিক বইয়ের। নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে বগুড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অনুসন্ধানে নামে হটনিউজ।

এ ঘটনায় আটক তিনজনের মধ্যে ফিরোজের আসল নাম ছানাউল্লাহ এবং তার বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট গ্রামে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার জন্য রোববার ফুলকোট গ্রামে গেলে কথা হয় ছানাউল্লার দু:সম্পর্কের ভাতিজা নাজমুলের সঙ্গে। তার কাছ থেকে জানা গেলো ছানাউল্লার বাবার নাম মৃত আফাজ উল্লাহ মোল্লা ওরফে আফা মুন্সি। ছানাউল্লাহ নিজে ফুলকোট গ্রামের দ‍ুর্বাডাঙ্গায় অবস্থিত ‘আল-জামিয়া আল-মিসবাহুল ইসলামিয়া মাদ্রাসায়’ শিক্ষকতা করতেন।

কথা হয় ছানাউল্লাহর প্রতিবেশী ও আত্মীয় আঞ্জু, জান্নাতি, শিরিন, মোহসিন, শাহীন, মোয়াজ্জেম, মোমিনসহ আরও অনেকের সঙ্গে। তারা হটনিউজকে জানান, ছানাউল্লাহ ও তার চার ভাই এলাক‍ায় ভদ্র ও ভালো মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত।

প্রতিবেশীদের থেকে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী সালেহার মৃত্যুর পর নাজমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন সানাউল্লাহ। প্রথম পক্ষের একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় পক্ষের এক ছেলে ও এক মেয়েসহ তার ৩ সন্তান।

ছানাউল্লাহর বাড়ি-ঘরের অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, গরীব এই মানুষটিই একটি জঙ্গি সংগঠনের সামরিক প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নেতা। তবে ফুলকোটে ২ বিঘা জমির উপর অবস্থিত প্রায় ১৩ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একই গ্রামের আব্দুর রহমান নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষকের তৈরি উম্মুল কোর একাডেমী কিনে নেওয়ার বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখেন অনেকেই।

এর আগে ২৩ আগস্ট পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছানাউল্লাহর স্ত্রী নাজমা বেগম(৩০) ও ছানাউল্লাহর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা বেগমকে (৩৫) আটক করে।

স্থানীয় আমরুল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন হটনিউজকে জানান, ছানাউল্লাহকে এলাকায় তারা কোনো রকম খারাপ কাজ করতে বা কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখেননি। বছর চারেক আগে ২০০৯ সালের দিকে তার ছেলে শাহআলমকে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন ছানাউল্লাহর মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে কোন এক সময় র‌্যাব এসে ছানাউল্লাহ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চায়। তারপর থেকেই ছেলেকে ছানাউল্লাহর মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে নেন নয়ন।

তবে ছানাউল্লাহর মা আরেফা বেওয়া (৬৫) নিজ সন্তানকে নির্দোষ দাবি করে হটনিউজকে জানান, অনেক কষ্ট করে তাকে চট্টগ্রামে বোখারী পড়ানো হয়েছে। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে কখনও এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা করেনি ছানাউল্লাহ। এসব কিছুই ষড়যন্ত্র।

র‌্যাব-১২ বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ হটনিউজকে জানান, আটকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তাদের সংবিধানে লেখা রয়েছে, র‌্যাব বা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ধরা পড়লে কখনই নাম ঠিকানা সঠিক বলা যাবে না। সে অনুযায়ী সহজেই ধারণা করা যায়, গ্রেফতারকৃতরা সকলেই তাদের আসল পরিচয় গোপন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

র‌্যাব-১২ বগুড়ার স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মিরান হোসেন হটনিউজকে জানান, নতুন কোন অগ্রগতি নেই। তবে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।