জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর সাহিত্য

দেশপ্রেমিক নির্বাসিত ,দেশবিরোধী নাগরিকত্ব পায়

toslima-bg20130825070355নিজস্ব প্রতিনিবেদক,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিনের নাগরিক ও মানবাধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তসলিমা নাসরিনের বন্ধুজনরা। তসলিমা নাসরিনের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘তাসলিমা পক্ষ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রকাশকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষজন অংশ নেন। “মত প্রকাশ, চিন্তার স্বাধীনতাসহ লেখক তসলিমা নাসরিনের সব অধিকার ফিরিয়ে দাও” শিরোনামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ‘এই দেশে এ কেমন ন্যায়, দেশবিরোধী গোলাম আযম নাগরিকত্ব পায়! অথচ দেশপ্রেমিক লেখক তসলিমা নাসরিন নির্বাসিত হয়!!’

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, তারাও দেশে বসবাস করছেন। এমনকি রাজাকার গোলাম আযম যিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, তিনিও বাংলাদেশের নাগরিত্ব পেয়েছেন। কিন্তু, তসলিমা নাসরিন দেশবিরোধী কোনো কাজ করেননি। তারপরও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। এতে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’

শ্রাবণ প্রকাশনীর রবীন আহসান বলেন, ‘অনেকে তাসলিমা নাসরিনকে ডাইনি বলেন। আমাদের দেশের নারীদেরই অনেক আগে থেকেই এ গালি শুনতে হয়। এরই ধারাবাহিকতাই তসলিমা নাসরিনকেও এই গালি শুনতে হয়েছে।’

মানববন্ধনে দাবি করা হয়, তসলিমা নাসরিন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন অন্যতম বলিষ্ঠ নারীবাদী লেখক। তিনি নারীর অধিকারের কথা বলতে গিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদী, রাষ্ট্র ও গোটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

মানববন্ধনে জানানো হয়, ১৯৯৪ সাল থেকে প্রায় ২০ বছর বহুবার দেশে ফেরার আবেদন জানিয়েও তসলিমা নাসরিন কোনো সাড়া পাননি। এটি বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যেমন তার মৌলিক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, তেমনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে চূড়ান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন।