জাতীয় প্রধান খবর

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বন্দনায় পঞ্চমুখ প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যমগুলো

হটনিউজ ডেস্ক:

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এমন পরিসংখ্যান এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর। তাদের মতে করোনা মহামারির মধ্যে যেখানে ভারত ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অর্থনীতি নিভু নিভু সেখানে রেমিট্যান্স রপ্তানি ও শিল্পোৎপাদনে বাংলাদেশের কেবলই চমক। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল এবং মানুষের অদম্য প্রাণশক্তিই বৈশ্বিক সংকটেও এ দেশের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ।
স্বাধীনতার ৪৯ বছরে নানা সময়ই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশকে। তবে কখনোই থামেনি অর্থনীতি চাকা। বৈশ্বিক মহামারি করোনা অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকে যেখানে প্রায় ধসিয়ে দিয়েছে সেখানে ভিন্ন চিত্র বাংলাদেশে। তাই তো এদেশের বন্দনায় পঞ্চমুখ প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যমগুলো।

করোনাকালেও ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের ওপরে। জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৫ শতাংশ। সাড়ে ২৪ শতাংশ উত্থান নিয়ে বিশ্ব পুঁজিবাজারে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির পেছনে বড় কার্যকর ভূমিকা হলো, আমরা ৮০’ দশক থেকেই প্রতি দশকে ১% এর বেশির জিডিপি প্রবৃত্তি অর্জন করতে পারছি। এবং গত এক দশকে গড়ে ৫% থেকে ৭% উন্নতি হয়েছে জিডিপি।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিখাতের জন্য ভালো বিনিয়োগ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। সুশাসন করতে হবে। আগামী দিনের অর্থনীতির সুযোগগুলো আমরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারবো তার প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম দেখানো হলেও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক এডিপি’র পূর্বাভাস প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা আইএমএফ-এর। চলতি বছরেই মাথাপিছু আয়ে পেছনে ফেলবে ভারতকে।

বিআইডিএস এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি হঠাৎ করে ঘটা কোনও ঘটনা নয়। আমাদের প্রবৃদ্ধির গতি এবং রপ্তানি এসব মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামীর বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে চাইলে জোর দিতে হবে বিনিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসনে। টেকসই অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি জোর দিতে নৈতিক শিক্ষার।