জাতীয় ঢাকা

আলাদিনস পার্ক ঢাকার পাশে দারুণ অবকাশ

mymen-220130825073746হটনিউজ২৪বিডি.কম,ময়মনসিংহ, ২৫ আগস্ট: ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার আলাদিন্স পার্ক। সময়ের সাথে সাথে এ পার্কটি ক্রমেই বেশ জমজমাট হয়ে উঠছে।ফুলবাড়িয়ায় দক্ষিণপ্রান্তে লালমাটির পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে আলাদিন্স পার্ক। ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দুরে। ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামের কুমির চাষ প্রকল্প,ফুলবাড়িয়ার কাহালগাঁও গ্রামের অর্কিড ফুলচাষ কেন্দ্র এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার তমালতলা গ্রামের শ্রীকৃষ্ণ-রাধার গোপন অভিসারের গুপ্ত বৃন্দাবনের কয়েক মাইলের মধ্যে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের বেতবাড়ি গ্রামে বিশাল ‘ক্যানভাসে গড়ে উঠেছে এ পার্ক।

আয়তনে ফ্যান্টাসি কিংডম কিংবা নন্দন পার্ক থেকেও সুবিস্তৃত। ২০১০ সালে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ তৎকালিন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন অনিন্দ্য সুন্দর এই পার্কের উদ্বোধন করেন।
লালমাটি এলাকার উচুঁ নিচু রাস্তা ধরে ঘন সবুজ প্রকৃতি পেরিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামে পৌঁছলে প্রথমেই নজরে পড়বে দৃষ্টিনন্দন পাথরে মোড়ানো আলাদিন্স পার্কের বিশাল ফটক। শ্বেত ও মার্বেল পাথরে মোড়ানো ফটকের সামনে দৃষ্টি নন্দন ফোয়ারা। প্রধান ফটক অতিক্রমের পর বিশাল গুহা পেরিয়ে সামনে এগোতেই চোখে পড়বে সারি সারি তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে।
পরিকল্পিতভাবে কাটছাঁট করা সমতল লাল পাহাড়ের ২০ একর জমির পুরোটাই যেন কোন শিল্পীর রঙ্গীন তুলিতে আঁকা ছবির সারি। পাহাড়ের উপর পাহাড়, সমতল ভূমির উপর কৃত্রিম পাহাড়, তাল-সুপারি ও পামের বৃক্ষরাজি, পাহাড়ের টিলা, ঝর্ণাধারা, স্বচ্ছজলের কৃত্রিম লেকে বক আর রাজহাঁস পালের জলকেলীতে মাতামাতি।

ঘন-সবুজের ছায়া ঘেরা শীতল পরিবেশের আঁকাবাঁকা পথের ফাঁকে ফাঁকে শ্বেত পাথরের মনকাড়া সব ভাস্কর্য। লেকের উপর গড়ে তোলা ছুঁ ছুঁ টিলায় উঠে কিংবা প্যাডেল বোটে লেকের বুকে ভেসে হিম শীতল বাতাসের পরশে গা জুড়ানো।

ন্যাচারাল বাঁশ বাগান, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের গরুর গাড়ি, মিনি চিড়িয়াখানায় শিয়াল, মেছো বাঘ ও হনুমানসহ বিচিত্র পশুপাখি এবং প্রাণীর জীবন্ত সংগ্রহশালা।

শিশুদের জন্য রয়েছে ড্রাগন, ড্রাইনোসর, বাঘ, ঘোড়া, হাতি ও সিংহের মূর্তি। শিশু-কিশোরদের বিনোদনে রয়েছে দুরন্ত গতির ইলেক্টনিক ট্রেন, ওয়ান্ডার হুইল, কিডি রাইডস, ভয়েজার বোট, রকেট।

এছাড়াও ওয়াটার পার্ক, সুইমিংপুল, থ্রিডি মিনি সিনেমা হল, ৫’শ আসনের অডিটরিয়াম, স্যুটিং স্পট, রিসোর্টে বসেই বড়শি দিয়ে মাছ শিকারসহ কিছু প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য্যের সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম বাহারি সৌন্দর্যের এক অসাধারণ সমন্বয়ের প্রতীক আলাদিন্স পার্ক।

ময়মনসিংহের লালমাটির জনপদ ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র আলাদিন্স পার্কের রূপ সৌন্দর্য দেখতে বছর জুড়ে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমিক সৌন্দর্য পিপাসুরা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা : রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। আলাদিন্স পার্কের ম্যানেজার আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে যারা বেড়াতে আসেন, তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের।

প্রবেশ মূল্য : প্রবেশ মূল্য ১০০টাকা। এছাড়া ভিতরের প্রতিটি রাইডের জন্য আলাদা করে ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়। ৫ বছরের নীচের বাচ্চাদের জন্য ৭টি রাইডার্স ফ্রি।

থাকা-খাওয়া : রয়েছে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও। প্রতিদিন কর্টেজ ভাড়া হচ্ছে, এসি ডিলাক্স ৪ হাজার টাকা, এসি ৩ হাজার টাকা ও নন এসি ২ হাজার টাকা। পিকনিক প্যাকেজ হচ্ছে প্রবেশসহ সকল রাইডর্স এবং দুপুরের খাবার কর্পোরেট বা ফ্যামিলি জনপ্রতি ৫’শ টাকা। কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৪’শ টাকা। আর ১০ বছরের নীচে শিশুদের জন্য জন প্রতি ৩৫০টাকা।

এ সংক্রান্ত হেল্পলাইন, ফোন:০২-৮৯৫৮৬১২, মোবাইল ০১৮৩১-০০৩০৫৫, ০১৮৩১-০০৩০৬৪।

যেভাবে যাবেন : ময়মনসিংহ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং ফুলবাড়িয়া সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এই পার্ক। রেলযোগে ঢাকার কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট ষ্টেশন থেকে আন্তঃনগর তিস্তা, অগ্নিবীণা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে ময়মনসিংহ শহরে যাওয়া যায়। ময়মনসিংহ থেকে সিএনজি, বাস বা কার যোগে আলাদিন্স পার্কে যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে ৩ ঘন্টার পথ। মহাখালী বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা মোড় থেকে আলাদিন্স পার্কে যাওয়া যায়। মাত্র ২০ মিনিটের পথের দুরত্ব ভরাডোবা মোড় থেকে আলাদিন্স পার্ক। ময়মনসিংহ শহর হয়েও এ পার্কে যাওয়া যায়।

সমস্যা : ফুলবাড়িয়া-সাগরদিঘি সড়ক থেকে আলাদিন্স পার্কে যেতে যে ৫০০মিটার দীর্ঘ সড়কটি রয়েছে তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। বৃষ্টিতে সড়কের ইট-সুড়কি উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ ফুট চওড়া এই সড়ক দিয়ে ২টি গাড়ি ঠিকমত চলতে পারে না। এছাড়া এ পার্কে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। জেনারেটরের বিদ্যুতেই দর্শনার্থীদের একমাত্র ভরসা।

আলাদিন্স পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলাউদ্দিন জানান, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে এখানে মৌসুমী পিকনিক পার্টি আসা শুরু করে চলে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময় দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগম ঘটে।