অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

লোকসান পাচঁ বছরে বিপিসির ত্রিশ হাজার কোটি টাকা

BPC-2520130825032421নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, ২৫ আগস্ট:  লোকসানের বৃত্তে আবদ্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অন্যতম।

এ প্রতিষ্ঠান বাবদ সরকার বছরের পর বছর মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান দিয়ে আসছে। গত ৫ বছরের মধ্যে ৫ বছরই লোকসানে ছিল এ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। ৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট লোকসান গুনতে হয়েছে ২৯ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।
কুইক রেন্টাল, জ্বালানি তেলে বিক্রিতে ঘাটতি পূরণ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে বিপিসি লাভের মুখ দেখতে পারছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ২২ কোটি টাকা লোকসান গুনছে গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।
এছাড়া ২০১০-১১ অর্থবছরে ৯ হাজার ৭৯৯ কোটি ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা লোকসান দেয়। সবশেষ ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ লোকসান নেমে আসে ৫ হাজার ৫২৭ কোটি টাকায়।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ৮০৬ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ১২ আগস্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান জ্বালানি ও খনিজ বিভাগের কাছে লেখা এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান।
জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির ঘাটতি মেটাতে গত চার বছরে ফার্নেস অয়েলের দাম ছয়বার, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ছয়বার এবং পেট্রলের দাম পাঁচ দফা বাড়ানো হয়েছে।
২০০৯ সালে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল ২৬ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ৪৪ টাকার ডিজেল ও কেরোসিন এখন হয়েছে ৬৮ টাকা। ৭৪ টাকার পেট্রল এখন ৯৬ টাকা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা। কিন্ত আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা তো রাখছেই না, বরং অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানই এখন রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যানা যায়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতির কারণে লোকসানের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। আর এ লোকসানের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।
এ প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রেখে লাভজনক করা সম্ভব হবে না বলেও মনে করছেন তারা।